জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে ইউক্রেনে শস্য রফতানির নতুন বিপণন মৌসুম শুরু হয়। সেই হিসাবে দেশটিতে শস্যের ২০২০-২১ মৌসুম শুরু হয়েছে। তবে মন্দা ভাবের মধ্য দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু করেছে ইউক্রেন। নতুন মৌসুমের প্রথম পাঁচ সপ্তাহে (১ জুলাই-৫ আগস্ট) দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে শস্য রফতানি আগের মৌসুমের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশ কমেছে। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম ও রয়টার্স।

নতুন মৌসুমের প্রথম পাঁচ সপ্তাহে ইউক্রেন থেকে সবচেয়ে বেশি কমেছে ভুট্টা রফতানি। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ সময় ইউক্রেন থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ৪ লাখ ৯০ হাজার টন ভুট্টা রফতানি হয়েছে। আগের মৌসুমের একই সময়ে দেশটি থেকে ১৫ লাখ টন ভুট্টা রফতানি হয়েছিল। 

শুধু ভুট্টা নয়, বরং গম ও যব রফতানিতেও মন্দা ভাবে মৌসুম শুরু করেছে ইউক্রেন। দেশটি থেকে নতুন মৌসুমের প্রথম পাঁচ সপ্তাহে ১৪ লাখ ৬০ হাজার টন গম রফতানি হয়েছে। একই সময়ে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি হয়েছে ১০ লাখ টন যব।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী ২০২০-২১ মৌসুমের শুরুতে ইউক্রেন থেকে শস্য রফতানি কমিয়ে দিয়েছে। অনেক দেশেই এখনো লকডাউন চলছে। স্থবির কিংবা শ্লথ রয়েছে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের রফতানিকারকরা শস্য রফতানিতে মন্দার মুখ দেখেছেন।

ইউক্রেন থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় গম। এছাড়া দেশটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সূর্যমুখী তেল ও তেলবীজ, ভুট্টা, যব রফতানি হয়। বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশ ইউক্রেন। দেশটি থেকে ২০১৯-২০ মৌসুমে সব মিলিয়ে ৫ কোটি ৬৫ লাখ টন শস্য রফতানি হয়েছে।

তবে ২০২০-২১ মৌসুম শুরু হলেও এখনো শস্য রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেনি ইউক্রেন সরকার। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারীর কারণে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শস্য রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য সময় নিচ্ছে দেশটি।