আন্তর্জাতিক বাজারে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে তামার দাম। নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর ধাক্কা সামলে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) সর্বশেষ কার্যদিবসে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম বেড়ে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠেছে। তামার দামের এ ঊর্ধ্বগতি বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ধাতুর বাজারের জন্য ইতিবাচক বিবেচনা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর মেটাল বুলেটিন ও বিজনেস রেকর্ডার।

এলএমই প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, সর্বশেষ কার্যদিবসে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামার দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৬৫ ডলার ৫০ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় টনে ৪৭ ডলার ৫০ সেন্ট বেশি। দিনের শুরুতে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামার দাম ৫ হাজার ২৬৯ ডলারে উঠেছিল। গত ১৭ মার্চের পর এলএমইতে এটাই ব্যবহারিক ধাতুটির সর্বোচ্চ দাম।

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে চাহিদা কমতির দিকে থাকায় মার্চের শেষ ভাগে তামার দামে বড় পতন দেখা দিয়েছিল। ওই সময় প্রতি টন তামার দাম ৫ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়। গত ১৭ মার্চ এলএমইতে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামা বিক্রি হয় ৪ হাজার ৭৭৪ ডলারে। পরদিন ব্যবহারিক ধাতুটির দাম আরো কমে দাঁড়ায় টনপ্রতি ৪ হাজার ৭৬৩ ডলারে। গত এক মাসে এটাই তামার সর্বনিম্ন দাম।

এরপর থেকে তামার দাম ক্রমেই বাড়তে শুরু করে। ৭ এপ্রিল তা ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। ওইদিন ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামার দাম ওঠে ৫ হাজার ৬৭ ডলার ৫০ সেন্টে। ১৪ এপ্রিল ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামার দাম ৫ হাজার ১১৯ ডলারে উন্নীত হয়।

বাড়তে বাড়তে ১৭ এপ্রিল ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামা ৫ হাজার ১৭৫ ডলারে বিক্রি হয়। গত এক মাসের মধ্যে এটাই এলএমইতে তামার সর্বোচ্চ দাম। এরপর কিছুটা কমলেও ২২ এপ্রিল নাগাদ ফের বাড়তে শুরু করে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে চাহিদা কমতির দিকে থাকায় তামার দরপতন ঘটেছিল। বিশেষত শীর্ষ ভোক্তা ও আমদানিকারক দেশ চীনের অর্থনৈতিক শ্লথতা চ্যালেঞ্জ বাড়িয়েছিল। এখন লকডাউন উঠে গিয়ে চীনা অর্থনীতিতে গতি ফিরতে শুরু করেছে। আর এ পরিস্থিতি ধাতু ব্যবসায়ীদের মনে আশার সঞ্চার করেছে। চাহিদা আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে বাড়তে শুরু করেছে তামার দাম। মূলত এ কারণেই এলএমইতে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম বেড়ে ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চে উঠেছে।