প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য আইএলও স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে। কিন্তু সেটি কাজ করছে না। যেকোনো আন্তর্জাতিক সংগঠন বা মানবাধিকার সংগঠনের জন্য তাদের রেগুলেশন কার্যকর করা কঠিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেছেন, ‘এটা নির্ভর করে ওই দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনের কার্যক্ষমতার ওপর। তাই আইএলও স্ট্যান্ডার্ড সব সময় কাজ করে না। কিন্তু আমরা যদি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের দিকে তাকাই সেখানে কিন্তু দেখা যাচ্ছে এই খাতটি বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’
গতকাল রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিক অভিবাসন’-সংক্রান্ত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা।
মসিউর রহমান বলেন, ‘বিদেশে জনশক্তি রফতানিতে দক্ষ শ্রমিকের জোগান নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই । আমরা দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে পারছি না বলে আমাদের শ্রমিকদের কম মজুরিতে কাজ করতে হয়।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘শুধু জনশক্তি রফতানির জন্যই কী দক্ষতা উন্নয়ন করা সম্ভব? আমি মনে করি না। যতক্ষণ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ শিক্ষা ব্যবস্থা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার পর্যাপ্ত বিস্তৃতি না ঘটবে ততক্ষণ পর্যন্ত এটি সম্ভব না।’
বিদেশ থেকে কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশে বিনিয়োগ ব্যবহার হয় না জানিয়ে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘বিদেশে কর্মরত কর্মীরা তাদের পাঠানো অর্থ দিয়ে জমি কেনে। কারণ তারা জানে না এ টাকা তারা কোথায় বিনিয়োগ করবে। এটা ক্ষতিকারক কিছু নয়, কিন্তু এ অর্থ বিনিয়োগে আমাদের আরো সম্ভবনার কথা চিন্তা করতে হবে। গ্রামের মানুষ যখন শহরে বিনিয়োগ করতে পারে না তখন তারা জমি কেনে। কারণ জমি তাকে নিরাপত্তা, সম্মান ও প্রতিপত্তি দেয়।
বিসের আয়োজিত সেমিনারের একটি সেশনের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন ড. তাসনিম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারীর পর শ্রমবাজারের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সে অনুপাতে শ্রমিকদের অধিকারের সুরক্ষা হয়নি।’










