ভারতের চিনি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। চলতি বিপণন মৌসুমে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে ৪৫ লাখ ৮০ হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়েছে। যেখানে গত মৌসুমের একই সময় উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭০ লাখ ৫ হাজার টন। সে হিসাবে এ বছর উৎপাদন কমেছে ৩৫ শতাংশ। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

প্রতি বছর অক্টোবর থেকে ভারতে চিনির বিপণন মৌসুম শুরু হয়, চলে পরের বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু এ মৌসুমে দেশটির অন্যতম চিনি উৎপাদন হওয়া রাজ্য মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে উৎপাদন বড় আকারে কমেছে। যার প্রভাব পড়েছে মোট উৎপাদনে। ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (ইসমা) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, এ মৌসুমের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে সব মিলিয়ে ৪০৬টি সুগার মিলে আখ মাড়াই শুরু হয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময় এর সংখ্যা ছিল ৪৭৩টি।

ভারতের সবচেয়ে বেশি চিনি উৎপাদন হওয়া রাজ্য উত্তর প্রদেশে এ সময় উৎপাদন বেড়েছে। রাজ্যটিতে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২১ লাখ ২০ হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময় উৎপাদন ছিল ১৮ লাখ ৯০ হাজার টন। চলতি মৌসুমের এক সপ্তাহ আগ থেকে আখ মাড়াই শুরু হওয়ায় রাজ্যটিতে এবার উৎপাদন বেড়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

তবে উত্তরের প্রদেশের উল্টো চিত্র মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে। রাজ্য েদুটিতে এ সময় চিনির উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। এরমধ্যে দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চিনি উৎপাদন হওয়া মহারাষ্ট্রের উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৬৬ হাজার টন। যেখানে গত বছরের একই সময় উৎপাদন ২৯ লাখ টন। সে হিসাবে রাজ্যটিতে এবার চিনির উৎপাদনে বড় ধাক্কা এসেছে।

অন্যদিকে তৃতীয় শীর্ষ উৎপাদক রাজ্য কর্ণাটকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ১০ লাখ ৬০ হাজার টন চিনি। যেখানে গত বছরের একই সময় উৎপাদন ছিল ১৩ লাখ ৯০ হাজার টন।

ইসমার প্রতিবেদন বলছে, রাজ্য দুটিতে এবার যথাক্রমে এক মাস ও এক সপ্তাহ পর থেকে আখ মাড়াই শুরু হয়েছে। ফলে চিনির উৎপাদন তুলনামূলক কম হয়েছে।