ফিলিপাইনের চিনি উৎপাদন খাতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ২০২০-২১ মৌসুমে দেশটিতে অপরিশোধিত চিনি উৎপাদন বেড়ে চার বছরের সর্বোচ্চে উন্নীত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ফিলিপাইনের সুগার রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসআরএ)। একই সঙ্গে বাড়তি উৎপাদনের জের ধরে ২০২০-২১ মৌসুমে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনি রফতানি ১৬ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছে। খবর বিজনেস মিরর ও বিজনেস রেকর্ডার।
১ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনে শুরু হয়েছে চিনির ২০২০-২১ উৎপাদন ও বিপণন মৌসুম। চলবে পরের বছরের ৩১ আগস্ট অবধি। মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে প্রকাশিত এসআরএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদ্য শুরু হওয়া ২০২০-২১ মৌসুমে ফিলিপাইনে সব মিলিয়ে ২১ লাখ ৯০ হাজার টন অপরিশোধিত চিনি উৎপাদন হতে পারে, যা বিদায়ী মৌসুমের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি। ৩১ আগস্ট শেষ হওয়া ২০১৯-২০ মৌসুমে দেশটিতে মোট ২১ লাখ ৪৫ হাজার টন অপরিশোধিত চিনি উৎপাদন হয়েছে। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে অপরিশোধিত চিনি উৎপাদন বাড়তে পারে ৪৫ হাজার টন।
এর আগে ফিলিপাইনের ইতিহাসে ২০১৬-১৭ মৌসুমে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত চিনি উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছিল। ওই মৌসুমে দেশটিতে মোট ২২ লাখ টন অপরিশোধিত চিনি উৎপাদন হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে এসআরএ। এবারের মৌসুমে ২১ লাখ ৯০ হাজার টন অপরিশোধিত চিনি উৎপাদনের মধ্য দিয়ে চার বছর পর খাদ্যপণ্যটির সর্বোচ্চ উৎপাদন দেখবে ফিলিপাইন।
বাড়তি উৎপাদনের জের ধরে ২০২০-২১ মৌসুমে ফিলিপাইন থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনি রফতানিতে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এসআরএ। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২০-২১ মৌসুমে ফিলিপাইন থেকে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টন চিনি রফতানি হতে পারে। এক বছরের ব্যবধানে দেশটি থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি বাড়তে পারে ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
এদিকে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ফিলিপাইনে সব মিলিয়ে ২০ লাখ টন চিনি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ কম। ২০১৯ সালে দেশটিতে ২১ লাখ টন চিনি উৎপাদন হয়েছিল। আর আগামী বছর ফিলিপাইনে ২০ লাখ টন চিনি উৎপাদন হতে পারে।
এদিকে চলতি বছর ফিলিপাইন থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ১ লাখ ২০ হাজার টন চিনি রফতানির সম্ভাবনা দেখছে ইউএসডিএ। আগের বছরও দেশটি থেকে একই পরিমাণ চিনি রফতানি হয়েছিল। তবে আগামী বছর ফিলিপাইন থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি বেড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টনে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।










