২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আয় ও মুনাফার পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে বিশ্বের বৃহত্তম চিপমেকার তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি)। এআই নির্ভর চিপের চাহিদা বাড়ায় এমন আর্থিক উল্লম্ফন দেখেছে কোম্পানিটি। খবর ইউরো নিউজ।
টিএসএমসি সম্প্রতি জানিয়েছে, প্রথম প্রান্তিকে বাজার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে কোম্পানির মুনাফা হয়েছে ২২ হাজার ৫৪৯ কোটি নিউ তাইওয়ানিজ ডলার বা ৬৫২ কোটি ইউরো। ওই প্রান্তিকে কোম্পানিটির মুনাফার পূর্বাভাস ছিল ৬১৮ কোটি ইউরো।
একই প্রান্তিকে টিএসএমসির আয়ের পূর্বাভাস ছিল ১ হাজার ৬৮৬ কোটি ইউরো। পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে জানুয়ারি-মার্চ তিন মাসের কোম্পানিটির আয় হয়েছে ১ হাজার ৮৮৭ কোটি ইউরো।
টিএসএমসি জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর চিপের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আয় ও মুনাফার পরিমাণ প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।
আয়সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশকালে টিএসএমসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিসি ওয়েই বলেন, ‘আমাদের চিপের প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ আগামী বছর পর্যন্ত থাকবে বলে মনে করছি। আমাদের প্রত্যাশা, ২০২৪ সালে সার্ভার এআই প্রসেসর থেকে টিএসএমসির আয় ৫০ শতাংশের বেশি বাড়বে।’
টিএসএমসির ইতিবাচক ফলাফল এমন সময় সামনে এল যখন সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলো খারাপ সময় অতিবাহিত করছে। সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর বিক্রির মোট পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৪৯০ কোটি ইউরো। এটি ২০২২ সালের তুলনায় ৮ দশমিক ২ শতাংশ কম। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ নেতিবাচক অবস্থার পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে অতিরিক্ত মজুদ।
বিশ্লেষকদের মতে, কভিড-১৯ মহামারীর সময় বিভিন্ন খাত খারাপ সময় পার করলেও প্রবৃদ্ধির ধারায় ছিল সেমিকন্ডাক্টর শিল্প। ওই সময় চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত চিপ উৎপাদন বাড়ায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে মহামারী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চিপের ক্রয়াদেশ কমে যায়। ফলে মজুদ বাড়াতে বাধ্য হয় নির্মাতা কোম্পানিগুলো।
সাম্প্রতিক সময়ে আরো দুটি চ্যালেঞ্জের সঙ্গে লড়তে হয়েছে টিএসএমসিকে। একটি হলো তাইওয়ানে আঘাত হানা ভূমিকম্প। চলতি মাসের শুরুর দিকে বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে স্বশাসিত এ দ্বীপে। এতে কিছু সময়ের জন্য চিপ উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল কোম্পানিটি। যদিও টিএসএমসির দাবি ছিল, ভূমিকম্প তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি।
বিশ্বের বৃহৎ চিপমেকারের জন্য দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ ছিল স্মার্টফোন বাজারের মন্দাবস্থা। তথ্য বলছে, গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২৭ মাস বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের বিক্রি নিম্নমুখী ধারায় ছিল। তবে বর্তমানে চাহিদা কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে।










