আঞ্চলিক ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি কাজুবাদাম উৎপাদন হয় পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোয়। যার বেশির ভাগ অপ্রক্রিয়াজাত অবস্থায় রফতানি করা হয়। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। করোনা মহামারীর ধাক্কায় এ অঞ্চলের কাজুবাদাম শিল্পের লোকসানের পাল্লা ভারী হয়ে উঠেছে। শ্রমিকের অভাব, রফতানি হ্রাস ও দরপতন—সব মিলিয়ে পশ্চিম আফ্রিকার কাজুবাদামের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা গভীর সংকটে পড়েছেন। খবর রয়টার্স।
পশ্চিম আফ্রিকায় উৎপাদিত কাজুবাদামের প্রধান রফতানি বাজার এশিয়া। অপ্রক্রিয়াজাত অবস্থায় এ অঞ্চলের কৃষকরা পণ্যটির বিক্রি শুরু করে, যার অধিকাংশ ক্রেতা এশিয়ার বিভিন্ন প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানি। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। মহামারীটির সংক্রমণ রোধে আরোপিত বিধিনিষেধ ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ে এসেছে অভূতপূর্ব পরিবর্তন। এতে পণ্যটির রফতানি বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে মহামারীর জেরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথতা কাজুবাদামের বৈশ্বিক ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে। ফলে আগে থেকেই উদ্বৃত্ত সরবরাহে থাকা পণ্যটির দাম আরো নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতি পশ্চিম আফ্রিকার কাজুবাদাম শিল্পের ক্ষতি ও চ্যালেঞ্জ আরো বাড়িয়ে তুলছে।
স্বাভাবিক সময়ে বছরের প্রথম পাঁচ মাসের মধ্যেই পশ্চিম আফ্রিকার কৃষকরা মোট বার্ষিক উৎপাদনের ৫৫ শতাংশ কাজুবাদাম সংগ্রহ করে ফেলেন। তবে শ্রমিক সংকট ও দাম কমায় এবার প্রচুর ফসল গাছেই পচে যাচ্ছে। আইভরি কোস্টের কাজুবাদাম বোর্ডের পরিচালক আদামা কুলিবালি বলেন, প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের অভাবে এরই মধ্যে ২০২০ সালে দেশটির কাজুবাদাম উৎপাদন পূর্বাভাস ১০ শতাংশ কমিয়ে ৭ লাখ ২০ হাজার টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ওপর পড়েছে মহামারীর প্রভাব। সব মিলিয়ে চলতি বছর দেশটির কাজুবাদাম খাত বড় ধরনের ধাক্কা খাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
একই পরিস্থিতি বজায় রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার অন্যান্য দেশেও। সেনেগালে সন্ধ্যা-সকাল কারফিউ জারি করা হয়েছে, যা পণ্যটির সংগ্রহ ও শুকানোর সময় কমিয়ে দিয়েছে। পরিবহন খাতে সীমাবদ্ধতা টানায় গাম্বিয়া থেকে পণ্যটির রফতানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া আঞ্চলিক লকডাউনের কারণে ঘানায় শ্রমিক সংকট চরমে উঠেছে। একই কারণে গিনি-বিসাউয়ের প্রধান রফতানি খাত কাজুবাদামের সঙ্গে জড়িত সাড়ে ছয় লাখ পরিবারের আয় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।










