চীনের কয়লা আমদানি ২০২৩ সালে সর্বকালের সর্বোচ্চে উঠেছে। ২০২২ সালের তুলনায় গত বছর দেশটির কয়লা আমদানি ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টনে। কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী জ্বালানি চাহিদা প্রবৃদ্ধি ও স্থানীয় কয়লার উচ্চমূল্য এতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। সম্প্রতি দেশটির শুল্ক বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার। 

প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কয়লা আমদানি করেছে চীন। বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, ২০২৩ সালে দেশটি মোট ৪৬-৪৭ কোটি টন কয়লা আমদানি করতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পূর্বাভাসের চেয়েও ৪৪ লাখ ২০ হাজার টন বেশি কয়লা কিনেছে চীন।

এদিকে দেশটির জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের তথ্য বলছে, মাসিক ভিত্তিতে ডিসেম্বরে চীনের কয়লা আমদানি সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করেছে। মাসটিতে ৪ কোটি ৭৩ লাখ টন কয়লা কিনেছে বেইজিং, যা নভেম্বর থেকে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ কয়লার চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে। পাশাপাশি আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি চীনে চন্দ্র নববর্ষ উৎসব শুরু হবে। এ উৎসবের ছুটির আগে চীনা ক্রেতারা কয়লার মজুদ বাড়াতে শুরু করেছেন। এটিও জ্বালানিটির আমদানি বৃদ্ধিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

এদিকে গত মাসে চীনের মন্ত্রিসভা দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ছাড়া দেশগুলোর ওপর ৩-৬ শতাংশ হারে কয়লা আমদানি শুল্ক পুনঃস্থাপন করেছে। এটি চলতি মাস থেকে চালু হবে। এক্ষেত্রে প্রধান সরবরাহকারী মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়ার কাছে ব্যাপকভাবে আবেদন করা হচ্ছে।

চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই এমন দেশ থেকে কয়লা আমদানির ক্ষেত্রে গত মাসে ৩-৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীনের মন্ত্রিসভা। ফলে শীর্ষস্থানীয় সরবরাহকারী মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়া থেকে কয়লা আনতে বাড়তি খরচ গুনতে হবে আমদানিকারকদের।

এ সিদ্ধান্ত চলতি মাস থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা শুল্ক এড়ানোর জন্য ডিসেম্বরে ব্যাপক হারে আমদানি বাড়িয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ শুল্ক আমদানীকৃত কয়লার দামে বড় ধরনের কোনো প্রভাব ফেলবে না। ফলে ২০২৪ সালেও আমদানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গোলিয়ান কয়লা আমদানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। কারণ উভয় দেশ গত বছর রেল সংযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে এবং শুল্কছাড়করণ সহজ করতে কাজ করেছে।

কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এ বছরের আমদানি ২০২৩ সালের রেকর্ড উচ্চ থেকে কম হতে পারে। ক্রমবর্ধমান নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন যদি বেশির ভাগ বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয় তাহলে কয়লার ব্যবহার কমে আসবে।