পাঁচদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৪-৭ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রকারভেদে ১৫-১৭ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৯-২৪ টাকা। অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন পাইকারি ক্রেতারা।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বন্দর দিয়ে নাসিক ও ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত। বর্তমানে বন্দরে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ প্রকারভেদে ১৯-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১৫-১৬ টাকা। এছাড়া নাসিক জাতের পেঁয়াজ ২৪ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ১৭ টাকা। তবে হিলি বাজারে আগের মতোই আমদানীকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ ১৮-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশীয় পেঁয়াজ একইভাবে ২২-২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘দেশীয় পেঁয়াজের ভালো সরবরাহ থাকায় কিছুদিন আগে মোকামগুলোয় আমদানীকৃত পেঁয়াজের তেমন একটা চাহিদা ছিল না। কিন্তু গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম ১৫-১৭ টাকায় নেমেছিল। তুলনামূলক কম দামের কারণে মোকামগুলোয় আমদানীকৃত ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা তৈরি হয়। সে মোতাবেক আমরা হিলি স্থলবন্দর থেকে পেঁয়াজ ক্রয় করে মোকামে পাঠাতে শুরু করি। কিন্তু কয়েকদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম আবারো বাড়ছে। বর্তমানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৯-২৪ টাকা। যে কারণে আমাদের পেঁয়াজ কিনতে সমস্যা হচ্ছে, পুঁজি বেশি লাগছে। সেই সঙ্গে চাহিদাও কমছে।
সেলিম হোসেন নামের একজন জানান, রমজান মাসকে সামনে রেখে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যাংকগুলো পেঁয়াজের এলসি দিচ্ছে। ফলে বাড়তি চাহিদার জন্য এলসি খোলার পাশাপাশি আমদানিকারকরা বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি বাড়িয়েছিলেন। তবে এখনো বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের ভালো সরবরাহ থাকায় আমদানীকৃত পেঁয়াজের চাহিদা কিছুটা কম। এতে চাহিদার তুলনায় আমদানি বাড়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতির দিকে ছিল। পক্ষান্তরে ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় তা আমদানি করে লোকশান গুনতে হচ্ছিল বন্দরের আমদানিকারকদের। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমায় আমদানীকৃত ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে দেশীয় পেঁয়াজের দাম খানিকটা বাড়ছে, যার কারণেও আমদানীকৃত পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়ছে। তবে আমদানি বাড়লে আবারো দাম কমে আসবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত। তবে আমদানির পরিমাণ ওঠানামা করছে। কোনোদিন বাড়ছে আবার কোনোদিন কমছে। মাঝে গড়ে প্রতিদিন ১০-১৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে তা ৮-১০ ট্রাকে নেমেছে। পেঁয়াজ কাঁচা পণ্য হওয়ায় কাস্টমসের প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত খালাস করতে সব ধরনের ব্যবস্থা রেখেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর দিয়ে গত সপ্তাহের ছয় কর্মদিবসে ৬৬টি ট্রাকে ১ হাজার ৯২২ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে বলেও জানা গেছে।’









