নেদারল্যান্ডসে হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১০ হাজার কোটি ইয়েন (৬৯ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করতে চায়৷মিৎসুবিশি করপোরেশন। এ কারখানার নির্মাণ ২০২৬ সালে শুরু হবে। ২০২৯ সালে হাইড্রোজেন উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির। খবর নিক্কেই এশিয়া।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে জলের তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে উৎপাদন হয় হাইড্রোজেন। এ প্রক্রিয়া চলাকালে কোনো কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয় না। পরবর্তী প্রজন্মের কার্বন-মুক্ত জ্বালানির উৎস হিসেবে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বলে হাইড্রোজেনকে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

মিৎসুবিশি বাণিজ্যিকীকরণের জন্য হাইড্রোজেন প্রযুক্তিকে পরিমার্জিত করার পরিকল্পনা করছে, যাতে উৎপাদন ও সরবরাহের মতো ক্ষেত্রগুলোয় নেতৃত্ব দেয়া যায়। সাধারণত পরিবেশবান্ধব জ্বালানি বিকাশে নেতৃত্ব দেয় ইউরোপ। মিৎসুবিশির লক্ষ্য হাইড্রোজেনকে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করা।

নেদারল্যান্ডসের কারখানায় যৌথভাবে উৎপাদন পরিচালনা করবে ইনেকো ডায়মন্ড হাইড্রোজেন, মিৎসুবিশি ও ট্রেডিং হাউজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইনেকো। এর মধ্যে ইনেকো একটি ডাচ নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানি।

নতুন বিদ্যুৎ প্লান্টটির বার্ষিক ৮০ হাজার টন সক্ষমতার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম প্লান্টগুলোর তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ বেশি।

নেদারল্যান্ডসে একটি বড় অফশোর বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে ইনেকোর। এখান থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে হাইড্রোজেন প্লান্টে ব্যবহার করা হবে। কোম্পানিটি খুচরা বিদ্যুৎ বিক্রয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হাইড্রোজেন বিক্রি করার এবং পাইপলাইন ব্যবহার করে ইউরোপে উৎপাদন ও বিদ্যুৎ ব্যবসায় সরবরাহ করার পরিকল্পনা করেছে।

বর্তমানে বেশির ভাগ হাইড্রোজেন প্লান্টে প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, যা হাইড্রোজেনের ব্যাপক উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

পরামর্শক সংস্থা পিডব্লিউসি জানিয়েছে, হাইড্রোজেন উৎপাদন করতে প্রতি কিলোগ্রামে ৩-৮ ইউরো (৩ দশমিক ২৮ থেকে ৮ দশমিক ৭৪ ডলার) খরচ হয়। এর তুলনায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে হাইড্রোজেন উৎপাদনে প্রতি কিলোগ্রামে ১-২ ইউরো বেশি খরচ হয়। মিৎসুবিশির লক্ষ্য ব্যাপক উৎপাদনের মাধ্যমে খরচ কমানো।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০৩০ সালের মধ্যে হাইড্রোজেনের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা এক কোটি টন বাড়াতে চায়।

অন্যান্য জাপানি কোম্পানি যেমন আসাহি কাসেই হাইড্রোজেন উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। মিৎসুবিশির লক্ষ্যও উৎপাদন ও সরবরাহের মাধ্যমে দেশীয় ব্যবসাকে আরো প্রসার করা।

ট্রেডিং হাউজ ইতোচু ও ওসাকা গ্যাস আগামী বসন্তে ডেনিশ হাইড্রোজেন ডেভেলপার এভারফুয়েলে বিনিয়োগ করবে। এজন্য ডেনমার্কে প্রতি বছর তিন হাজার টন হাইড্রোজেন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া তেল কোম্পানি ইনোস ও ট্রেডিং হাউজ সুমিতোমো করপোরেশন মালয়েশিয়ায় ২০৩০ সালের মধ্যে হাইড্রোপাওয়ার থেকে হাইড্রোজেন তৈরিতে কাজ করছে।