দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা কিয়া চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) রেকর্ড ৩ দশমিক ৬৪ ট্রিলিয়ন ওন বা ২৬৩ বিলিয়ন ডলার পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে। এ সময় পরিচালন মুনাফা মার্জিন ছিল রেকর্ড ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে এ নিয়ে টানা দুই প্রান্তিকে রেকর্ড ভাঙল কোম্পানিটি। এ প্রবৃদ্ধির পেছনে উন্নত বিপণন ব্যবস্থা, গড় বিক্রি মূল্য বৃদ্ধি ও ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার অনুকূল বিনিময় হার প্রণোদনা হিসেবে কাজ করেছে বলে জানিয়েছে কিয়া। খবর কোরিয়া হেরাল্ড।

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় কিয়ার পরিচালন মুনাফা বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। এ সময় বিশ্বজুড়ে ৭ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩টি গাড়ি বিক্রি করেছে কিয়া, যা গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কম। তবে আয় ৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৭ দশমিক ৫৭ ট্রিলিয়ন ওন।

কিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে কম গাড়ি বিক্রি করা সত্ত্বেও মুনাফার পরিমাণ বেড়েছে। এর পেছনে যেসব কারণ রয়েছে—বেশি দামের গাড়িকে কেন্দ্র করে উন্নত বিপণন পরিকল্পনা, কাঁচামালের স্থিতিশীল দাম, গড় বিক্রি মূল্য বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে অনুকূল বিনিময় হার ও নিম্নস্তরের প্রণোদনা।

উত্তর আমেরিকায় গাড়ি বিক্রিতে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে কিয়া। অঞ্চলটিতে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) ও বিলাসী গাড়ির বিক্রি বেড়েছে। এদিকে বিশ্বব্যাপী ইভি, হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিডসহ ১ লাখ ৬২ হাজার পরিবেশবান্ধব গাড়ি বিক্রি করেছে কিয়া, যা ২০২৩ সালের (এপ্রিল-জুন) প্রান্তিকের তুলনায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রির ২১ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবেশবান্ধব গাড়ি, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। ইভির বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৫৪ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে।

কিয়া জানিয়েছে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানির লক্ষ্য হলো ইভিকে জনপ্রিয় করা। এজন্য সম্পর্ণ নতুন ইভি৩ ও হালনাগাদ ইভি৬ মডেল উন্মোচন করা হবে।

চলতি বছরের শেষের দিকে কোরিয়ায় কে৮ সেডানের ফেসলিফট মডেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে কিয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফেসলিফটেড সোরেন্টো হাইব্রিড এসইউভি, কার্নিভাল হাইব্রিড মাল্টি-পারপাস ও কে৪ কমপ্যাক্ট সেডানের মতো নতুন মডেল ছাড়ার মাধ্যমে বিক্রির পরিমাণ এবং মুনাফা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এক বিবৃতিতে কিয়া বলেছে, ‘চলমান ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা চলমান। তবে আমাদের পক্ষ থেকে বাজার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’