চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে পেপসিকোর। এ কারণে পুরো বছরের আয় ও মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে মার্কিন পানীয় জায়ান্ট। পণ্যের উচ্চমূল্য প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

নিউইয়র্কভিত্তিক স্ন্যাক ও পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত তিন মাসে বিক্রির পরিমাণ এক বছর আগের তুলনায় ১ শতাংশ কম ছিল। তবে উচ্চ পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি কাঁচামালের ১৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতিতে মুনাফা ধরে রাখতে সংস্থাটি পণ্যের মূল্য দুই অঙ্ক বাড়িয়ে দেয়। যদিও পেপসিকো জানিয়েছে, পণ্যের এ উচ্চমূল্য ভোক্তাদের নিরুত্সাহী করবে বলে মনে হয় না।

পেপসিকোর প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হগ জনস্টন বিনিয়োগকারীদের একটি সম্মেলনে বলেন, আমরা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি ক্রেতাদের মধ্যে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ ভোক্তা আমাদের পণ্যে এখনো ব্যয় অব্যাহত রেখেছেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা তৃতীয় প্রান্তিক পার করেছি।

তৃতীয় প্রান্তিকে মার্কিন মুদি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। এক বছর আগের তুলনায় এসব পণ্যের দাম ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এ হার ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ।

হগ জনস্টন জানান, উত্পাদন মূল্য বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম বাড়াতে হয়েছে। এ পদক্ষেপের পরও মুনাফা হ্রাস পেয়েছে। সাবসিডিয়ারি খাদ্য প্রস্তুতকারক ফ্রিটো-লের মার্কেটিংয়ে দুই অঙ্কের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন খাতেও অধিক ব্যয় করা হয়েছে। এ বিষয়গুলো মুনাফা মার্জিনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

পেপসিকো এখন আশা করছে, চলতি বছর অধিগ্রহণ, অবসায়ন ও বৈদেশিক বিনিময় হারের প্রভাব বাদ দিয়ে হিসাব করা অর্গানিক আয় ১২ শতাংশ বাড়বে। এর আগে ১০ শতাংশ অর্গানিক আয় বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি শেয়ারপ্রতি মুনাফা পূর্বের ৮ শতাংশের পরিবর্তে এখন ১০ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে পেপসিকোর আয় বছরওয়ারি হিসাবে ৯ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৯৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ আয় বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ২ হাজার ১০০ কোটি ডলারের চেয়ে বেশি। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ২১ শতাংশ বেড়ে ২৭০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। রাশিয়ায় উত্পাদন বন্ধের একমাত্র বিষয়টি ছাড়া পানীয় জায়ান্টের শেয়ারপ্রতি মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ ডলার ৯৭ সেন্টে। এটি ওয়াল স্ট্রিটের দেয়া পূর্বাভাস ১ ডলার ৮৪ সেন্টের চেয়ে বেশি।