দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি কমেছে। অক্টোবরে দেশটির রফতানি দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সংকুচিত হয়েছে। এটি রেকর্ড মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান সুদের হারের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে চাহিদা ধীর হওয়ার চিত্র তুলে ধরেছে। খবর সিএনবিসি।

শুল্ক অফিসে তথ্য অনুসারে, অক্টোবরে সামগ্রিক রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। এ হার অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ২ দশমিক ১ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। কোরিয়ার বাণিজ্যের তথ্য বৈশ্বিক বাণিজ্যের বড় একটি চিত্র সরবরাহ করে। কারণ দেশটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য চিপ, ডিসপ্লে ও পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইটেম তৈরি করে। দক্ষিণ কোরিয়ার আয়ের বড় একটি উৎস সেমিকন্ডাক্টর রফতানি। গত মাসে এ আয় ২০১৯ সালের পর সবচেয়ে বেশি কমেছে।

হ্যানওয়া অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের কৌশলবিদ রোহ হিউন-উ বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানিতে সংকোচন বৈশ্বিক চাহিদা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সুদের হার বাড়ছে, ক্রেডিট মার্কেটগুলো চাপে পড়ছে এবং ব্যবসায়িক মনোভাব দুর্বল হওয়ার মতো বিষয়গুলোকে প্রতিফলিত করছে রফতানির এ চিত্র।

তবে রফতানি কমলেও গত মাসে দেশটির আমদানি ৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। এতে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৭০ কোটি ডলারে। এ নিয়ে টানা সপ্তম মাসে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতির এ পরিমাণ অর্থনীতিবিদদের দেয়া পূর্বাভাস ৩৫০ কোটি ডলারের প্রায় দ্বিগুণ।

নিম্নমুখী রফতানি ও ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি সাম্প্রতিক সময়ে নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগে নতুন করে যুক্ত হয়েছে। এমনিতেই তারা অর্থনীতির গতি বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। গত সপ্তাহে সিউলে হ্যালোইন উদযাপনের সময় একটি মারাত্মক জনসমাগম দুর্ঘটনাও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এটি ভোক্তাদের মনোভাবকে আঘাত করতে পারে।

বৈশ্বিক আর্থিক সংকট পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চ পণ্যের দাম দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক বাণিজ্য ঘাটতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। কোরিয়া ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের মতে, ডলারের বিপরীতে ওনের অবমূল্যায়ন আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি এটি রফতানি আয় হ্রাসেরও কারণ হতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ, প্রধান অর্থনীতিগুলোয় সুদের হার বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে মন্দার ঝুঁকি রফতানি কমার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জার্মানি, ফ্রান্স ও জাপানের মতো বৈশ্বিক উৎপাদন হাবগুলোর রফতানি ধীর এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

গত মাসে কোরিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার চীনে রফতানি ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গিয়েছে। যখন চিপ রফতানি কমার হার ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ। যদিও এ সময়ে দেশটির গাড়ি রফতানি ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেল পণ্যের রফতানি ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং রিচার্জেবল ব্যাটারি রফতানি ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।