ওয়ালমার্টের সবচেয়ে বড় আমদানি অংশীদার চীন। প্রতি বছর সিংহভাগ পণ্যই দেশটি থেকে আমদানি করে বিশ্বের শীর্ষ এ রিটেইলার (খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান)। কিন্তু চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশটি থেকে আমদানি ব্যয় ব্যাপক বেড়েছে, যা বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি লোকসানের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত থেকে আমদানি বাড়াচ্ছে ওয়ালমার্ট। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
ব্যয় কমানোর পাশপাশি সরবরাহ চেইনে বৈচিত্র্য আনার বিষয়টিও ভারত থেকে আমদানি বাড়াতে ওয়ালমার্টকে উৎসাহিত করছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি মোট পণ্য আমদানির এক-চতুর্থাংশই কিনেছে ভারত থেকে। অথচ ২০১৮ সালেও দেশটি থেকে মাত্র ২ শতাংশ আমদানি করা হয়েছিল।
তথ্য বলছে, ওয়ালমার্ট সাধারণত চীন থেকেই সবচেয়ে বেশি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করে। ২০১৮ সালে দেশটি থেকে আমদানির হার ছিল ৮০ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত আমদানির হার কমে ৬০ শতাংশে নেমেছে। তবে চীন এখনো ওয়ালমার্টের শীর্ষ পণ্য সরবরাহকারী দেশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন থেকে পণ্য আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠায় মার্কিন কোম্পানিগুলো ভারত, ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো থেকে আমদানি বাড়াচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লম্বা সময় ধরেই সুদহার বাড়াচ্ছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ। ফলে দেশটির ভোক্তাদের ঋণসংক্রান্ত ব্যয় বেড়ে গেছে। তার ওপর নিত্যপণ্যের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতেও হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। ফলে খুচরা পণ্য কেনার পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোক্তা ব্যয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক পন্থা অবলম্বন করছে ওয়ালমার্ট। এমন বাস্তবতায় আমদানিসহ অন্যান্য ব্যয় কমাতে উদ্যোগী হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ওয়ালমার্টের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট আন্দ্রিয়া অলব্রাইট এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা আমাদের গ্রাহকের কাছে সবচেয়ে সেরা দামে পণ্য বিক্রি করতে চাই। আর এর অর্থ হলো আমাদের সরবরাহ চেইনে স্থিতিস্থাপকতা প্রয়োজন। আমরা আমাদের পণ্যের জন্য যেকোনো একটি ভূখণ্ড বা সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারি না। এমন নির্ভরশীলতা নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।’
ওয়ালমার্ট ২০১৮ সাল থেকেই ভারতের বাণিজ্য সম্প্রসারণ করছে। ওই বছর প্রতিষ্ঠানটি ভারতের ই-কমার্স মার্কেটে বড় বিনিয়োগ করে কিনে নেয় দেশটির শীর্ষস্থানীয় অনলাইন রিটেইলার ফ্লিপকার্টের ৭৭ শতাংশ শেয়ার। এর দুই বছর পর ওয়ালমার্ট প্রতিশ্রুতি দেয় যে ২০২৭ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ভারত থেকে ১ হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হবে। যদিও এ লক্ষ্যমাত্রা এখনো পূরণ হয়নি। বর্তমানে প্রতি বছর আমদানি করা হচ্ছে ৩০০ কোটি ডলারের পণ্য।










