চলতি বছরের প্রথমার্ধে হংকংয়ে মিলিয়নেয়ারের সংখ্যা কমে গিয়েছে। শহরটি মিলিয়নেয়ার বসবাসের সংখ্যায় শীর্ষ ১০ থেকেও বাদ পড়েছে। শহরটিতে উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি বা কমপক্ষে ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ থাকা ব্যক্তির সংখ্যা ১৪ শতাংশ কমে ১ লাখ ২৫ হাজার ১০০ জনে নেমেছে। অন্যদিকে এশিয়ার আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে হংকংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী সিঙ্গাপুরে মিলিয়নেয়ারের সংখ্যা বেড়েছে। এ নিয়ে মিলিয়নেয়ার বসবাসে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে নগররাষ্ট্রটি। লন্ডনভিত্তিক অভিবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, মিলিয়নেয়ার বসবাসে শীর্ষ শহরের তালিকায় হংকং ১২তম স্থানে নেমে গিয়েছে। এর আগে শহরটির অবস্থান ছিল অষ্টম। এ তালিকায় সবচেয়ে বড় পতনও হংকংয়ের। কভিডজনিত কঠোর বিধিনিষেধের কারণে শহরটিতে অতিধনীদের সংখ্যা কমেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে বছরের প্রথম ছয় মাসে সিঙ্গাপুরে মিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ১ শতাংশ বেড়েছে। এ নিয়ে তালিকায় পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে শহরটি। কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিসা শহরটিতে ধনকুবেরের সংখ্যা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের তথ্য অনুসারে, মিলিয়নেয়ার বসবাসে বিশ্বের শীর্ষ শহর নিউইয়র্ক। যুক্তরাষ্ট্রের শহরটিতে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ জন ধনকুবেরের বসবাস। শহরটির বাসিন্দাদের কাছে থাকা মোট ব্যক্তিগত সম্পদ ৩ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। মিলিয়নেয়ারের সংখ্যায় এর পরেই রয়েছে জাপানের আর্থিক কেন্দ্র টোকিও। শহরটির ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০০ জনের সম্পদের পরিমাণ ১০ লাখ ডলারের উপরে। এর পরে সান ফ্রান্সিসকো ও সিলিকন ভ্যালি শহর ঘিরে থাকা সান ফ্রান্সিসকে বে এরিয়া তৃতীয় স্থানে রয়েছে। শহরটিতে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৪০০ মিলিয়নেয়ারের বসবাস। এছাড়া ২ লাখ ৭২ হাজার ৪০০ জন মিলিয়নেয়ার নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে লন্ডন। পাশাপাশি ২ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ জন ধনকুবের নিয়ে সিঙ্গাপুরের অবস্থান পঞ্চমে।
সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে কোটিপতিদের বহিঃপ্রবাহ দেখেছে লন্ডন। অনেক ধনকুবের শহর ছেড়ে কাছাকাছি কমিউটার নগরে চলে গিয়েছেন। এর বাইরে ১ লাখ ৯২ হাজার ৪০০ জন মিলিয়নেয়ার নিয়ে তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস। তার পরে শিকাগোয় ১ লাখ ৬০ হাজার ১০০, হিউস্টনে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০, বেইজিংয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ ও সাংহাইয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ১০০ জন মিলিয়নেয়ার রয়েছে। বছরের প্রথমার্ধে রিয়াদ, দুবাই, লুয়ান্ডা, আবুধাবি ও দোহায় ধনকুবেরের সংখ্যা বেড়েছে।
এ প্রতিবেদন তৈরিতে হেনলি দক্ষিণ আফ্রিকাভিত্তিক নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথের তথ্য ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে হেনলি স্বাধীন সম্পদ গবেষণা সংস্থা হিসেবে অভিহিত করেছে। নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথের গবেষণা প্রধান অ্যান্ড্রু অ্যামোয়েলস বলেন, এক দশক আগে হংকং ধনীদের বসবাসে টোকিওর পরে এশিয়া-প্যাসিফিসের দ্বিতীয় শীর্ষ শহর ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্ক, সিঙ্গাপুর ও সাংহাইয়ের কাছে অবস্থান হারিয়েছে। তবে এশিয়ার অনেক ধনী ব্যবসায়ী এখনো শহরটিতে নিজেদের ভিত্তি বজায় রেখেছেন। এজন্য হংকং পুঁজিবাজার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক্সচেঞ্জ রয়ে গিয়েছে।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের পূর্ববর্তী একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চলতি বছর তিন হাজার কোটিপতি হংকং ছেড়ে চলে যাবেন। বর্তমানে শহরটিতে বসবাসকারী মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশের হাতে ১০ লাখ ডলারের বেশি সম্পদ রয়েছে।
কয়েক বছর ধরে শহরটি ধনী ব্যক্তি ও ব্যবসার বহির্গমন দেখেছে। কভিডজনিত কঠোর বিধিনিষেধ শহরটিতে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে প্ররোচিত করেছে। এ প্রবণতা মহামারীর আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কয়েক হাজার হংকংবাসী অন্য কোথাও বসবাসের চেষ্টা করে আসছে।










