নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি। গত মাসে দেশটিতে আবারো মূল্যস্ফীতির হার ধীর হতে দেখা গেছে। এর মধ্য দিয়ে আশা তৈরি হচ্ছে, চলতি বছর দেশটির অর্থনীতির অবস্থা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর পদক্ষেপ শিথিল হবে। খবর এপি।
বৃহস্পতিবার মার্কিন সরকার জানিয়েছে, ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি এক বছর আগের তুলনায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এটি ছিল টানা ষষ্ঠ মাসের মতো বছরওয়ারি ধীর হওয়ার প্রবণতা। এ হার নভেম্বরের ৭ দশমিক ১ শতাংশ থেকেও ধীর। মাস ভিত্তিতে নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরে দাম মূলত কমে গেছে দশমিক ১ শতাংশ। ২০২০ সালের মে মাসের পর দামে এটাই সবচেয়ে বড় পতন।
কর কনসালট্যান্ট আরএসএমের প্রধান অর্থনীতিবিদ জো ব্রাসেলস বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি ধীর হওয়া শুরুর পয়েন্ট হিসেবে এটা বেশ ভালো, যা ভোক্তা ও ব্যবসাগুলোর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কাজ করবে।’
ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ধীর হওয়ার পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে ফেডারেল রিজার্ভ আগামী কয়েক মাসে তাদের সুদহার বৃদ্ধির প্রবণতাও মন্থর করবে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় পরবর্তী মিটিংয়ে ফেডারেল রিজার্ভ হয়তো তাদের বেঞ্চমার্ক
হার সর্বনিম্ন বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে। এর আগে ডিসেম্বরে তা আধা পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছিল এবং তারও আগে বাড়ানো হয়েছিল ৭৫ বেসিস পয়েন্ট।
ফেডারেল কর্মকর্তারা এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন যে সুদের হার ৫ শতাংশের ওপরে ওঠানো হতে পারে। ফলে বন্ধকি হার বেশি থাকবে, অটো ঋণের এবং ব্যবসায়িক ধারের খরচ বাড়বে।
কিন্তু যদি মূল্যস্ফীতি ধীর হওয়ার প্রবণতা বজায় থাকে, তাহলে ফেডারেল সুদের হার বাড়ানোর প্রবণতা প্রত্যাহার করতেও পারে। কিছু কিছু অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘হতে পারে এ হার মার্চে একবার সম্পূরকভাবে বাড়ানো হবে তারপর থামিয়ে দেয়া হবে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফেড সুদের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ বাতিল করবে। যদিও ডিসেম্বর মিটিংয়ের কোনো নোটেই ১৯ নীতিনির্ধারকের কেউই চলতি বছর সুদের হার কমানোর পূর্বাভাস দেয়নি।’
পিজিআইএম ফিক্সড ইনকামের বৈশ্বিক অর্থনীতিবিদ দালিপ সিং বলেন, ‘যদি সত্যিকারের মূল্যস্ফীতি ধীর হয়, তাহলে ফেড আরো একটু স্বস্তি পেতে পারে এই ভেবে যে, তারা তাদের অর্থনীতিকে ভালো জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। তার প্রত্যাশা, ফেড তাদের বেঞ্চমার্ক সুদের হার আগামী দুটি মিটিং পর্যন্ত কোয়ার্টার পয়েন্ট করে বাড়াতে পারে। তারপর তারা তাদের মূল হার ৫ শতাংশের নিচে রেখে দেবে।
ইউরোপে ও যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতিও ধীর হয়েছে। যদিও তা খুব কম হারে। কয়েক মাসব্যাপী বাড়তি মূল্য পেরিয়ে ইউরো মুদ্রা ব্যবহার করা ১৯ দেশে বছরওয়ারি মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বরে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো ধীর হয়েছে। যদিও তা এখনো কষ্টকর ৯ দশমিক ২ শতাংশে রয়ে গেছে। তবে এ হার নভেম্বরের ১০ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কম। বর্তমানে ইউরোপজুড়ে জ্বালানির দাম বেশ কমে গেলেও তা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।










