মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে গত বছর কয়েক দফায় সুদের হার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। মূলত মূল্যস্ফীতি দ্রুত বাড়তে থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়িয়ে আর্থিক নীতিকে শক্ত করে ফেড। তবে পরবর্তী দুটি নীতি সভার প্রতিটিতে সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট (ভিত্তি পয়েন্ট) বৃদ্ধির মাধ্যমে সুদহার বৃদ্ধির চক্রটি শেষ করতে যাচ্ছে ব্যাংকটি। এ-সম্পর্কিত রয়টার্সের জরিপে বেশির ভাগ অর্থনীতিবিদ অবশ্য মত দিয়েছেন যে এরপর সম্ভবত বছরের বাকি সময় সুদের হার স্থির রাখা হতে পারে। খবর রয়টার্স।

ফেড কর্মকর্তারা সম্প্রতি এ বিষয়ে সর্বসম্মত হন যে মূল্যস্ফীতির প্রভাব মূল্যায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগ্রাসী সুদের হার বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দেয়া উচিত। যদিও গত বছর ফেড রাতারাতি সুদের হার ৪২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে দেয়।

এদিকে অবশ্য মূল্যস্ফীতির হার ধারাবাহিকভাবে হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি রয়টার্সের জরিপে অংশ নেয়া ৮৩ জনের মধ্যে ৬৮ জন উত্তরদাতাই পূর্বাভাস দেন যে ফেড তাদের আসন্ন বৈঠকে সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্টে উন্নীত করতে পারে। বৈঠকটি ৩১ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উত্তরদাতাদের ৮০ শতাংশ মনে করেন, ফেড পলিসি রেট ও ফেডারেল তহবিল হার সাড়ে ৪ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ করতে পারে।

যদিও মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ বেসিস পয়েন্ট সুদহার বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়া হয়, যা পলিসি রেট ও ফেডারেল তহবিল হারকে ৪ দশমিক ৫০ ও ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

এর আগে রয়টার্সের জরিপে অংশ নেয়া ৯০ জন অর্থনীতিবিদের মধ্যে ৬১ জন বলেন, মার্চে ফেডের তহবিলের হার বাড়তে পারে ৪ দশমিক ৭৫ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত, যা সুদহারের ভবিষ্যৎ মূল্যের সঙ্গে মিলে যায়। যদিও এটি ১৩ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের বৈঠকের শেষে ফেড নীতিনির্ধারকদের জারি করা ‘ডট প্লট’ অনুমানের থেকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট কম ছিল।

এ সম্পর্কে আইএনজির প্রধান আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ জেমস নাইটলি উল্লেখ করেন ‘মার্কিন মূল্যস্ফীতির বর্তমান অবস্থা আমাদের সামনে তুলে ধরছে যে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমছে, তবুও শক্তিশালী চাকরির বাজারের অভাব বিদ্যমান। তাই ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।’

এদিকে ধারণা করা হচ্ছে, প্রত্যাশিত টার্মিনাল হার বাড়বে দ্বিগুণেরও বেশি। তবে ২০২৩ সালের শেষের দিকে ফেডের পলিসি রেট ঠিক কত হবে বা কোথায় গিয়ে থামবে, বৈঠকে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঐকমত্য দেখা যায়নি। তবে উত্তরদাতাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ বা তার বেশি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছেন।

জরিপে সুদের হার বৃদ্ধির পরিমাণ ফেডের সাম্প্রতিক অনুমানগুলো থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং বেকারত্বের হার বৃদ্ধির অনুমানগুলো ছিল কাছাকাছি। মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে জরিপে। যদিও তা ফেডের অনুমানকৃত ২ শতাংশের তুলনায় বেশি।

ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বের বৃহত্তম এ অর্থনীতি চলতি বছর মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হবে। যদিও ২০২৪ সালে ১ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে। দেশটিতে ব্যাপক ছাঁটাই চলছে, বিশেষ করে আর্থিক ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোয়। বর্তমান বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। অনুমান করা হচ্ছে, বেকারত্বের এ হার আগামী বছর ৪ দশমিক ৩ এবং এর পরের বছর ৪ দশমিক ৮ শতাংশ হবে।

এছাড়া জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে অতিরিক্ত একটি প্রশ্ন করা হয়। এর উত্তরে ৬০ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা বলেন, গত বছর সুদহার কর্তনের চেয়ে ফেডের পক্ষে বরং বছরের বাকি সময়ে তা স্থির রাখার সম্ভাবনা বেশি ছিল। তবে তেমনটি ঘটেনি। জরিপের অংশগ্রহণকারীরা তাই দুই বছরের মধ্যে মার্কিন মন্দার প্রায় ৬০ শতাংশ সম্ভাবনার আভাস দিচ্ছেন।