বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্যের যে প্রবৃদ্ধি গত বছর দেখা গিয়েছিল, তা বছরের শেষ প্রান্তিকে এসে গতি হারিয়েছে। এমনকি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে না। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) গুড ট্রেড ব্যারোমিটারের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সংকট অব্যাহত থাকলেও দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে আশাবাদ বিশ্লেষকদের। চীনের বন্দরগুলোয় কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি, ঊর্ধ্বমুখী পারচেজিং ম্যানেজার ইনডেক্সের (পিএমআই) মাধ্যমে স্পষ্ট নতুন ক্রয়াদেশের পরিমাণ বাড়ছে। 

ক্রয়াদেশ বৃদ্ধির কারণে ২০২২ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে পণ্যদ্রব্যের বাণিজ্যে ঠিক এক বছর আগের সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এদিকে ২০২২ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। যা ডব্লিউটিও’র সবশেষ প্রকাশিত পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। শেষ প্রান্তিকে গিয়ে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় বরং সঠিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি ডব্লিউটিওর পূর্বাভাসের ধারায় ফিরেছে। 

বিশ্ব বাণিজ্যের অবস্থা বোঝার জন্য গুড ট্রেড ব্যারোমিটার একটি যৌগিক সূচক। এর মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্যের সঠিক ও সময়ের সঙ্গে চলমান যথাযথ ধারা বোঝা সম্ভব। ব্যারোমিটারে যদি মান ১০০-এর ওপরে ওঠে, তাহলে এটি বোঝায় যে বাণিজ্যের অবস্থা প্রবণতার চেয়ে ভালো। আর যদি মূল্যমান ১০০-এর কম হয়, তাহলে বোঝায় বাণিজ্য পরিস্থিতি নিম্নমুখী বা সামনের দিনে আরো নিচে নামবে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চতুর্থ প্রান্তিকে যে বাণিজ্য পরিস্থিতি ছিল, তা দীর্ঘমেয়াদি হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনের বন্দরগুলোয় কর্মচাঞ্চল্য ও পিএমআইয়ের বর্তমান অবস্থা সেটিই নির্দেশ করছে। সবমানদণ্ডের সূচক এটাই নির্দেশ করে যে অটোমোটিভ পণ্য সূচক ছাড়া অন্য সব সূচক প্রবণতার নিচে রয়েছে। যা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানে প্রবণতার চেয়ে বেশি বাণিজ্য ও উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে বজায় রয়েছে। 

যদিও রফতানি ক্রয়াদেশ সূচক প্রবণতার চেয়ে নিচে রয়েছে। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি বাড়ছে। অদূর ভবিষ্যতে পরিস্থিতি উল্টে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কনটেইনার পরিবহন, আকাশপথে পণ্য পরিবহন, বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ও কাঁচামালের সূচক এখনো প্রবণতার চেয়ে কম। এমনকি ধীরে ধীরে কমছে। এ খাতগুলোর নিম্নমুখী প্রবণতা আরো অনেক খাতকে প্রভাবিত করছে।