প্রবেশের ক্ষেত্রে নীতি কিছুটা শিথিল করায় ভারতীয় ও মালয়েশীয় পর্যটকরা ছুটছেন থাইল্যান্ডে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রবেশ করেছেন মোট ২০ লাখ পর্যটক। ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির মন্থর হয়ে পড়া অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
১ জানুয়ারি থেকে ২৬ জুনের মধ্যে থাইল্যান্ডে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা ২০ লাখে দাঁড়িয়েছে বলে সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানান ডেপুটি সরকারি মুখপাত্র ট্রাইসুরি টাইসারানাকুল।
এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও মার্কিন পর্যটকরা। থাইল্যান্ডের পর্যটন খাত নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর সময়ে রীতিমতো ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ১ জুলাই থেকে দেশটিতে পর্যটনের জন্য আগাম রেজিস্ট্রেশন ও বাধ্যতামূলক চিকিৎসা বীমা বাতিল করায় মাসিক পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ১৫ লাখে দাঁড়াবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি এখন মহামারীকালে ভ্রমণ ও ব্যবসার ওপর দেয়া বেশির ভাগ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। সেই সঙ্গে গত সপ্তাহে বাধ্যতামূলক মাস্কনীতি তুলে নিয়ে পাব ও বারগুলোকে আবার তাদের স্বাভাবিক সময়ের মতো কার্যক্রম চালু রাখতে বলেছে।
এসব পদক্ষেপই নেয়া হচ্ছে দেশটির পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতিকে একটু উপরের দিকে তুলে ধরতে। যেটা নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর আগে মোট দেশজ উৎপাদনে ১২ শতাংশ প্রভাব রাখত। তাছাড়া ডলারের বিপরীতে দেশটির দুর্বল হয়ে পড়া অর্থ এবং গাঁজা বৈধ করার কারণেও সেখানে পর্যটক আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের পর্যটন ও খেলাবিষয়ক মন্ত্রী ফিফাত রাতছাকিটপ্রাকারন।
মন্ত্রণালয় একটি পূর্বাভাসে জানিয়েছে, কীভাবে সাড়ে সাত লাখ পর্যটক চলতি বছরেই দেশে আমন্ত্রণ জানানো হবে সে বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। তবে এ সময়েও চীনের পর্যটক আসবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ দেশটি এখনো শূন্য করোনাভাইরাস নীতি অনুসরণ করছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধে একটি বড় ভূমিকা পালন করছে।
ট্রাইসুরি এক বিবৃতিতে বলেন, যদিও চীনের পর্যটক ছাড়া করোনাভাইরাস মহামারীর পূর্ব পর্যায়ের মতো পর্যটক গ্রহণের দিকে যাওয়া থাইল্যান্ডের জন্য কঠিনই হবে। তার পরও শিক্ষার্থী ও ব্যবসার ওপর থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে তুলে নেয়া এবং দুই দেশের মধ্যে আবার ফ্লাইট শুরু করার ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্যও বেশ আশাবাদ দেখা যাচ্ছে।
২০১৯ সালে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর আগে থাইল্যান্ড সফরে যান চার কোটি বিদেশী পর্যটক। তার মধ্যে ৩০ শতাংশই ছিল চীনা পর্যটক। তার পরই আসে করোনাভাইরাস মহামারীর আঘাত। তাতে সারা বিশ্বের মতো থমকে যায় থাইল্যান্ডের পর্যটন খাতও।








