সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ভারতে কয়লা উত্তোলন পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। অনেক প্রদেশেই জ্বালানিটির মজুদ বেড়েছে লক্ষণীয় মাত্রায়। ফলে বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে দেশটিতে কয়লা আমদানির চাহিদা তুলনামূলক কম। এ কারণেই সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য কয়লা আমদানি লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে ভারত। সরকারি এক নোটিস পর্যালোচনা করে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সরকারি কর্তৃপক্ষের জারি করা এক নোটিসে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্লেন্ডিংয়ের জন্য কী পরিমাণ কয়লা প্রয়োজন, তার একটি হিসাব দিতে বলা হয়েছে।

ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানায়, অনেক প্রদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এখনো ৫০ শতাংশ কয়লার মজুদ আছে। তবে কিছু প্রদেশে মজুদ পরিস্থিতি অত্যন্ত কম।

মন্ত্রণালয় আরো জানায়, ভারতের স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদক ও কয়লা মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরবরাহের জন্য কী পরিমাণ কয়লার আমদানি করতে হবে, তা মূল্যায়নের ক্ষমতা রাখে। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ভারতে কয়লা উত্তোলন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৭ কোটি ৭৩ লাখ ১০ হাজার টনে।

বড় পরিসরে কয়লা উত্তোলন বাড়াতে চায় ভারত। উদ্দেশ্য আমদানি কমানোর মাধ্যমে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে আনা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে ১২০ কোটি টন কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা করেছে দেশটি। বর্তমানে ভারত যে পরিমাণ কয়লা উত্তোলন করে, এটি তার চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি। বছরের শুরুর দিকে এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে ভারতের কয়লাবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভারত সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম বাণিজ্যিক নিলাম। রেভিনিউ শেয়ার ম্যাকানিজমের মাধ্যমে এ নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া উত্তোলন বাড়াতে ও নিলাম চালু রাখতে সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির সরকার স্থানীয় কয়লা উত্তোলন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দিচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা রয়েছে, সেগুলো সম্প্রসারণও করা হচ্ছে।

এর আগে ভারতের রাষ্ট্র মালিকানাধীন কোম্পানি কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড ২০২৪ সালের মধ্যে ১০০ কোটি টন কয়লা উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা। কারণ বেসরকারি কোম্পানিগুলোর মাঝে বাণিজ্যিক নিলাম ও উত্তোলন নিয়ে আগ্রহ খুবই কম।