স্থায়ী সভ্যতা গড়ে ওঠার প্রধান নিয়ামকগুলোর একটি বিনিময় পদ্ধতির উত্থান। শুরুর দিকে পণ্যের সঙ্গে পণ্য বিনিময় করত মানুষ। ক্রমে রপ্ত করে মুদ্রার ব্যবহার। তারপর সময়ের প্রয়োজনেই বিবর্তিত হতে থাকে মুদ্রা। গ্রিস, আনাতোলিয়া, পারস্য, ভারত ও সারা পৃথিবী। সে মুদ্রার ইতিহাসকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করল সাম্প্রতিক এক গবেষণা। ইউনিভার্সিটি অব হাইফা ও হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেমের একদল প্রত্নতাত্ত্বিকের অনুসন্ধানে মিলল খ্রিস্টপূর্ব সপ্তদশ শতকের রৌপ্যমুদ্রা। জেরুজালেমের নিকটবর্তী তেল শিলোহ, তেল গেজের ও তেল আল-আজ্জুল অঞ্চলে প্রাপ্ত মুদ্রাগুলো নির্মিত হয়েছে আনাতোলিয়ায়।

খ্রিস্টপূর্ব তিন হাজার বছর আগে মেসোপটেমিয়ায় মুদ্রার ব্যবহার শুরু হয় বলে গবেষকদের দাবি। তবে এতদিন মনে করা হতো, দক্ষিণ লেভান্ট বা বাইবেলে বর্ণিত কানান অঞ্চলের মানুষ মুদ্রার ব্যবহার রপ্ত করে খ্রিস্টপূর্ব দ্বাদশ শতকে। ফলে সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রাপ্ত ফল কানান অঞ্চলে মুদ্রা ব্যবহারের ইতিহাসকে পিছিয়ে দিল আরো ৫০০ বছর। আর মুদ্রার সঙ্গে যেহেতু অর্থনীতি, বাণিজ্য ও নগরায়ণ ওতপ্রোত জড়িত, স্বাভাবিকভাবেই ইতিহাসকে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে।

গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব হাইফার অধ্যাপক ড. তিজিল্লা ইশেল। তিনি দাবি করেছেন, রৌপ্যমুদ্রানির্ভর অর্থ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে পড়া তাদের জন্য নতুন অনেক সুবিধা ও সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। রৌপ্যমুদ্রা আয়তনে কম ও কম ক্ষয়িষ্ণু। ফলে এটি সারা অঞ্চলের নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অবদান রেখেছে। এ গবেষণার মাধ্যমে আনাতোলিয়া ও লেভান্ট অঞ্চলের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইতিহাস আরো পেছনে পৌঁছায়। অর্থাৎ লেভান্ট অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্যিক সম্পর্কের কেন্দ্র ছিল। স্বাভাবিকভাবেই সে বাণিজ্যে ভূমধ্যসাগরের পার্শ্ববর্তী মিসরীয় ও গ্রিকদের উপস্থিতি থাকা অসম্ভব নয়।

বাণিজ্যে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে হাজর ও মারির নামক দুই নগরের মধ্যে রৌপ্যমুদ্রা ব্যবহারের কথা রয়েছে হাজরে প্রাপ্ত নিদর্শনে। সেমেটিক এ নগর দুটি বর্তমান সিরিয়ায় অবস্থিত। রৌপ্যখণ্ডগুলো অমসৃণ। ফলে অলঙ্কার বা সাজসামগ্রী হওয়া অসম্ভব। উপরন্তু সেগুলো কাপড়ে পেঁচিয়ে একটা মাটির পাত্রে রাখা। যা নির্দেশ করে কোনো বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবেই এগুলো ব্যবহার করত সে সময়ের মানুষ। গবেষকদের দাবি, মুদ্রাগুলো ব্রোঞ্জ যুগের। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে মুদ্রার আধিক্য মূলত মুদ্রার বহুল ব্যবহার ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত।