দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে অফশোর বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছে। উন্নয়নশীল দেশটি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতের ওপর যে জোর দিয়েছে, তার সুবিধা নিয়েই এ খাতের পরিসর বাড়ছে।

ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূল দিয়ে বয়ে যাওয়া শক্তিশালী বাতাসকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র। চলতি শতকের মাঝামাঝি নাগাদ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ভিয়েতনাম। সে লক্ষ্য পূরণে এখনই নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামোয় বিনিয়োগের সেরা সময় বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভিয়েতনামের দক্ষিণ উপকূলে বাতাসের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিটার। অফশোর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রতি সেকেন্ডে ৮ মিটার গতিবেগের বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে ভিয়েতনামের বাতাসের গতিবেগ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য খুবই ভালো।

গত সেপ্টেম্বরে জাপানের সুমিতোমো করপোরেশন ভিয়েতনামে অফশোর বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ঘোষণা দেয়। এর আগে এ-সংক্রান্ত একটি জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপে উঠে আসে কোন পথে সঞ্চালন লাইন বসানো হবে তার বৃত্তান্ত। ২০৩০ সাল নাগাদ ৫০০ মেগাওয়াট থেকে ১ গিগাওয়াট সক্ষমতার এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শুরুর বিষয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে জাপানের প্রতিষ্ঠানটি। যদি প্রকল্পটি সঠিকভাবে কাজ শুরু করে তাহলে ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলেও নতুন প্রকল্প চালু করবে সুমিতোমো করপোরেশন।

অবশ্য কেবল সুমিতোমোই নয়, জাপানের আরো কিছু কোম্পানি ভিয়েতনামের অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রেনোভা। যাদের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ পারদর্শিতা রয়েছে। এরই মধ্যে রেনোভা ভিয়েতনামে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করেছে। গত এপ্রিলে ভিয়েতনামের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি পেট্রোভিয়েতনাম গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিও সই করেছে রেনোভা। চুক্তি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ২ গিগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ভাসমান অফশোর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে কোম্পানিটির, যেটি টারবাইনের মাধ্যমে সমুদ্রের বুকে ভেসে থাকবে।