মূল্যস্ফীতির ঘোড়া যেন লাগামছাড়া। আর এর সঙ্গে তাল মেলাতে প্রতি মাসে ৩৭১ ডলার বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে মার্কিন নাগরিকদের। বাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে মুদি বাজার এবং পরিষেবা—সবখানেই দিতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। খবর সিএনএন।
সম্প্রতি কয়েক মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তা সত্ত্বেও গত ডিসেম্বরে আগের বছরের তুলনায় পারিবারিক বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় ৩৭১ ডলার বাড়তি ব্যয় করতে হয়েছে। আর্থিক পরিষেবা সংস্থা মুডি’স অ্যানালিটিকস এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে ভালো খবর এই যে জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমতে শুরু করেছে এবং প্রকৃত আয় কিছুটা বেড়েছে। গত জুনে যখন মূল্যস্ফীতি শীর্ষ অবস্থানে ছিল, সেই সময়ে একটি পরিবারকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০২ ডলার বাড়তি ব্যয় করতে হয়েছে।
মুডি’সের তথ্য বলছে, বিভিন্ন পরিবার আবাসনের ক্ষেত্রে ৮২ ডলার ৬০ সেন্ট এবং খাবারের ক্ষেত্রে ৭২ ডলার ১ সেন্ট বেশি খরচ করছে।
দেশটির ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, এক বছর আগের তুলনায় এখন মার্কিন নাগরিকরা মুদি দোকানের ক্ষেত্রে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি অর্থ খরচ করছে। আগের বছরের তুলনায় ডিমের দামই বেড়ে গেছে ৬০ শতাংশ। ১৯৭৩ সালের পর ডিমের দাম এবারই সবচেয়ে বেশি বাড়তে দেখা গেছে। সেবার অ্যাভিয়ান ফ্লুর জন্য ডিমের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছিল।
অন্য যেসব বিষয় বিভিন্ন পরিবারকে বাড়তি খরচে বাধ্য করছে সেগুলো হলো বিভিন্ন পরিষেবা (৪৭ ডলার ৩৩ সেন্ট বেশি), স্বাস্থ্যসেবা (১৭ ডলার ৯৭ সেন্ট বেশি), বিনোদন (১৫ ডলার ২৭ সেন্ট বেশি) ও অ্যালকোহল পানীয় (২ ডলার ৬৭ সেন্ট বেশি) তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশটি হলো গ্যাসোলিন। সেখানে একটি পরিবারের আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ ডলার ৫৫ সেন্ট কম দিতে হচ্ছে। সম্প্রতি কিছু পদক্ষেপের কারণে মার্কিন নাগরিকদের মূল্যস্ফীতির কষ্ট কিছুটা কম হতে দেখা যাচ্ছে। যেমন মূল্যস্ফীতির তুলনায় বেতনের হার দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতির গতি স্পষ্টতই মন্থর হয়েছে। ডিসেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এ হার ২০২১ সালের অক্টোবরের পর সবচেয়ে ধীর।










