দেশের পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, ফান্ড ম্যানেজার, মার্চেন্ট ব্যাংক এবং শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গতকাল দুই দফায় বৈঠক করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এতে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজ নিজ অবস্থানে বিনিয়োগের সক্ষমতা অনুযায়ী বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সবাইকে অনুরোধক্রমে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বিএসইসির ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের উদ্যোগে আয়োজিত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে কয়েকটি ফান্ড ম্যানেজার ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি কমিশনার ড. মিজানুর রহমান। তিনি উপস্থিত সবাইকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষা করে এবং সুষ্ঠু প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশনা দেন। পরে ফান্ড ম্যানেজার ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা পুঁজিবাজার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তারা দেশের বাজারে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো এবং এ খাতকে আরো ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে নিজেদের সর্বাত্মক চেষ্টা ও সহযোগিতা থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।
দ্বিতীয় দফায় বিএসইসির উদ্যোগে বেলা ১১টায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং বন্ড মার্কেট ও পুঁজিবাজারের উন্নয়নে করণীয় সংক্রান্ত বিষয়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, মার্চেন্ট ব্যাংক এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। বৈঠকে বিএসইসির করপোরেট ফাইন্যান্স ডিভিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থার বিবেচনায় সবাইকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় দেশের প্রাইভেট সেক্টর থেকে প্রতি বছর ২৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ দরকার। বিশ্বজুড়ে বন্ড মার্কেট দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জোগানে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং বাংলাদেশের বাজারেও এর জন্য রয়েছে অনেক সুযোগ ও সম্ভাবনা। দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বন্ড বাজারকে আরো টেকসই রূপ দেয়া এবং বন্ডের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো।’










