ভারতের প্রভাবশালী সংবাদ সম্প্রচারমাধ্যম নিউ দিল্লি টেলিভিশন (এনডিটিভি) অধিগ্রহণ ব্যবসা নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন গৌতম আদানি। সম্প্রতি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এমন মন্তব্য করেন এশিয়ার এ শীর্ষ ধনী। 

আগস্টের শেষ দিকে ‘স্বাধীন’ গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিত এনডিটিভির সিংহভাগ শেয়ার অধিগ্রহণের পরিকল্পনার কথা জানান আদানি। এর মালিকানা বদলের শঙ্কায় সংবাদকর্মী ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। আশঙ্কা করা হয়, এনডিটিভির সম্পাদকীয় নীতি এতে বড় ধরণের হুমকিতে পড়বে।

প্রণয় রায় ও রাধিকা রায় দম্পতির হাত ধরে ১৯৮৮ সালে যাত্রা শুরু করে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় এ সংবাদমাধ্যমটি।  সম্প্রতি তারা জানায়, আদানি গ্রুপ তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা না করে অধিগ্রহণ পরিকল্পনা নিয়ে এগোয়। 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটের বাসিন্দা আদানি। কংগ্রেসসহ দেশটির প্রধান বিরোধী ব্লকের অভিযোগ,মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির মতো বিলিয়নেয়াররা মোদি সরকারের সুবিধা পাচ্ছে।



ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আদানি বলেন, স্বাধীন মানে হলো, সরকার ভুল কিছু করলে তাকে ভুল বলা। কিন্তু একইসঙ্গে সরকার ভালো কিছু করলে তাকে ভালো বলা।

আদানি আরো বলেন, তিনি এনডিটিভি অধিগ্রহণ প্রস্তাবে এর প্রতিষ্ঠাতা প্রণয় রায়কে চেয়ারম্যান হিসেবে থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। 

বাণিজ্যিক দিক থেকে এনডিটিভির প্রতিযোগী হলো অপর ভারতীয় বিলিয়নেয়ার  মুকেশ আম্বানি নিয়ন্ত্রণাধীন টাইমস গ্রুপ। যাদের মালিকানায় রয়েছে টাইমস নাউ ও নেটওয়ার্ক১৮ এর সিএনএন-নিউজ১৮। 

সাক্ষাৎকারে আদানি বলেন, তিনি গুজরাটে আরো ৪০০ কোটি ডলার পেট্রোকেমিকেল কমপ্লেক্সে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে একটি ‘সুপার অ্যাপ’ চালু করতে যাচ্ছেন আদানি। এর মাধ্যমে আদানি বিমানবন্দরে যাত্রীরা গ্রুপের অন্যান্য পরিষেবাগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।