এশিয়ার শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশগুলোয় শস্যটির রফতানি মূল্য কমার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। উল্টো প্রতি সপ্তাহেই দাম বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। সরবরাহ সংকটে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে শস্যটির বাজারদর। মূলত ভারত বাসমতী ছাড়া অন্য সব ধরনের চাল রফতানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
থাইল্যান্ডে চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চালের রফতানি মূল্য বেড়ে ১৫ বছরের সর্বোচ্চে। প্রতি টন বিক্রি হচ্ছে ৬২৭-৬৩০ ডলার মূল্যে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৪৫ ডলার।
ব্যাংককভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি সপ্তাহে চালের দাম ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে। ফলে ক্রয়াদেশের পরিমাণও কমে গেছে। চলতি মাসের শেষ দিকে বাজারে নতুন সরবরাহ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন দাম কিছুটা কমতে পারে। চলতি বছর থাইল্যান্ড ৮০ লাখ টন চাল রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হবেন বলে প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। তবে তাদের ভারতে চলমান পরিস্থিতির ওপর খুব ভালোভাবে নজর রাখতে হবে।
ভারত চলতি সপ্তাহে প্রতি টন ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল ৪৫০-৪৫৫ ডলারে বিক্রি করছে। মূলত সাদা চালের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর এ জাতের চালের ওপর স্থানান্তরিত হয়েছে আমদানিকারকরা। রফতানিকারকরা জানান, ভারত বর্তমানে শুধু ভাঙা সেদ্ধ চালই রফতানি করছে। রেকর্ড দামের কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় চালের চাহিদা কম।
ভারত গত ২০ জুলাই বাসমতী নয়, এমন চাল রফতানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। তবে খাদ্য নিরাপত্তার চাহিদা মেটাতে কিছু দেশকে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুমতির ভিত্তিতে এবং তাদের সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে রফতানির অনুমতি দেয়া হচ্ছে।
ভারতের উত্তরাঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পাঞ্জাব ও হরিয়ানাসহ কয়েকটি রাজ্যে নতুন রোপণ করা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অনেক এলাকার কৃষককে পুনরায় ধান রোপণ করতে হয়েছে। বিশ্বজুড়ে চাল সরবরাহের প্রায় ৯০ শতাংশের ভোক্তা এশিয়া। এল নিনো ফিরে আসায় এ অঞ্চলের দেশগুলোয় চালের উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যার প্রভাবে লাগামহীন হয়ে পড়তে পারে শস্যটির বাজার।
এদিকে ভিয়েতনাম প্রতি টন ৫ শতাংশ ভাঙা চাল ৫৯০-৬০০ ডলার মূল্যে রফতানি করছে। ১৫ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এটির বাজারদর। এক সপ্তাহ আগেও দেশটি প্রতি টন চাল ৫৫০-৫৭৫ ডলারে রফতানি করেছিল। হো চি মিন সিটিভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতসহ কিছু দেশ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় চালের দাম অব্যাহত বাড়ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, চালের দাম কতদূর পর্যন্ত বাড়বে তা এখনো আমরা জানি না। স্থানীয় বাজারে ধানের দামও দুই সপ্তাহে খুব শক্তিশালীভাবে বেড়েছে। প্রতি কেজির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮০০ থেকে ৭ হাজার ২০০ ডং পর্যন্ত। রফতানিকারক ও চালকলগুলোয় ধানের চাহিদা লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। চলতি বছর ভিয়েতনামের চাল রফতানি ৭৮ লাখ টনের নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছর দেশটি ৭১ লাখ টন রফতানি করেছিল।










