জ্বালানির দিক দিয়ে উত্তর ইউরোপের তুলনায় ভালো আছে স্পেন ও পর্তুগাল। পর্যাপ্ত সূর্যালোক, প্রবল বাতাস ও সমৃদ্ধ গ্যাসের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপনা অঞ্চলটিকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। উত্তর আফ্রিকা থেকে গ্যাস আমদানির নির্ভরযোগ্য সুবিধা এবং নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে স্পেন ও পর্তুগাল অদূর ভবিষ্যতে ইউরোপের সম্ভাব্য শক্তিকেন্দ্রে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে। এমনটাই দাবি করা হয়েছে নরওয়েভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জির গবেষণায়।

চলমান অর্থনৈতিক সংকটে আইবেরিয়ান উপদ্বীপের বাজার বেশ স্থিতিশীল। স্পেন ও পর্তুগালে বিদ্যুতের মূল্য ফ্রান্সের তুলনায় কম। এর বড় কারণ রাশিয়ার গ্যাসের ওপর তাদের নির্ভরতা নেই। দেশে উৎপাদিত গ্যাসের বাইরে প্রয়োজনীয় গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানি করা হয় আলজেরিয়া থেকে। কেবল ২০২২ সালেই ১৪ দশমিক ৬ কিউবিক মিটার প্রাকৃতিক গ্যাস আলজেরিয়া থেকে স্পেনে নেয়া হয়েছে। স্পেন ও পর্তুগাল মিলে ২০২২ সালের প্রথম নয় মাসেই ২৮ বিলিয়ন কিউবিক মিটার প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করেছে। বছর শেষে যার পরিমাণ আনুমানিক ৩৯ বিলিয়ন কিউবিক মিটারে দাঁড়াবে।

এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির হারও আশানুরূপ সাফল্য দেখাচ্ছে। উৎপাদনের জন্য মূলত নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর নির্ভর করা হয়। পরিসংখ্যান বলছে, আইবেরিয়া উপদ্বীপে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০২১ সালে ৪৮ শতাংশ ছিল, যা ২০২৫ সালে ৬৪ শতাংশ এবং ২০৩০ সালে ৭৯ শতাংশে উত্তীর্ণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইউরোপজুড়ে জ্বালানি সংকট আইবেরীয় উপদ্বীপে প্রভাব ফেলেছে সত্য। তবে তা অন্যান্য অংশের তুলনায় কম। রাইস্ট্যাড এনার্জির বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিভাগের প্রধান কার্লোস তোরেস দিয়াজ। তিনি দাবি করেন, ‘বিনিয়োগ, ভূগোল ও গৃহীত নীতির কারণে স্পেন ও পর্তুগাল ইউরোপীয় জ্বালানি সংকট মোকাবেলা করতে সক্ষমতা দেখাতে পারছে। রাইস্ট্যাড এখানকার বাজার নিয়ে মনোযোগী। কারণ অদূর ভবিষ্যতে জ্বালানি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে অঞ্চলটি।’

ইউরোপের বায়ুশক্তি ব্যবহারকে শিল্পে পরিণত করার পথিকৃৎ স্পেন। বর্তমানে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে দ্বিতীয় বৃহত্তম। উপদ্বীপে এখন ৫০ গিগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা, যার ৬০ শতাংশ আসে বায়ুশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। তাদের পরিকল্পনা ক্রমেই বাড়ছে একে ঘিরে। ২০৩০ সালের মধ্যে স্পেন তার ব্যবহূত বিদ্যুতের ৭৪ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে উৎপাদন করতে চায়। পর্তুগাল হাতে নিয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রবাহিত বায়ু থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৬ গিগাওয়াট থেকে ১০ গিগাওয়াটে উত্তীর্ণ করতে।