আগামী মে ও জুলাইয়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির কথা ভাবছে ওপেক ও তার মিত্ররা। এ সময়ে তারা দৈনিক জ্বালানি তেল উত্তোলন প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। খবর এপি।

করোনা মহামারী থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জ্বালানি তেল উত্তোলন অনেক দিন ধরেই স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে তেল রফতানিকারক দেশগুলোর শীর্ষ সংগঠনটি। মহামারীর কারণে জ্বালানি তেলের চাহিদা তলানিতে ঠেকায় গত বছর উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছিল ওপেক ও তার মিত্র দেশগুলো। ধীরে ধীরে উত্তোলন বৃদ্ধি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী মে মাসে প্রতিদিন উত্তোলন বাড়াবে ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল। জুন ও জুলাইয়ে উত্তোলন বাড়াবে যথাক্রমে সাড়ে তিন লাখ ও চার লাখ ব্যারেল। এদিকে সৌদি আরব ফের প্রতিদিন যে ১০ লাখ ব্যারেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা বাতিল করেছে।

সৌদি আরবের নেতৃত্বে ওপেক সদস্য দেশগুলো এবং রাশিয়ার নেতৃত্বে ওপেকের বাইরের দেশগুলো প্রতি মাসেই নিজেদের মধ্যে বৈঠক করছে। অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে তেল উত্তোলনে ভারসাম্য আনতে উভয় পক্ষ এ কাজ চালিয়ে এসেছে। বিশ্বের শীর্ষ এ জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলো এ বিষয়ে উভয়সংকটে রয়েছে। চাহিদা বৃদ্ধির আগে উত্তোলন বাড়িয়ে দিলে জ্বালানি তেলের দাম কমে যেতে পারে। আবার উত্তোলন অনেক কমিয়ে ফেললে দেশগুলোর সার্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ে। কারণ তেল রফতানির ওপর এ দেশগুলোর অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য অংশ নির্ভর করে।

বর্তমান বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেশ ঊর্ধ্বমুখী, যদিও রফতানিকারক দেশগুলো উত্তোলন বৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে। নিউইয়র্কে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬১ দশমিক ৫৬ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। ব্রেন্টের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ব্যারেলপ্রতি ৬৪ দশমিক ৯৬ ডলারে।

ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি নতুন করে লকডাউন আরোপের ফলে ইউরোপের বাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমলেও চীনের বাজারে চাহিদা বেশ চাঙ্গা। ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টি ফোরের উপাত্তে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৭৭ হাজার ৭০৮টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। মহামারী শুরুর পর এটা দৈনিক সর্বোচ্চ ফ্লাইট। এভিয়েশন মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য খাতেও লক্ষণীয় উন্নতি হচ্ছে—এমন দাবি সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমানের।

কয়েক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের ওপরে থাকায় উত্তোলন বৃদ্ধির জন্য চাপের মুখে রয়েছে ওপেক ও তার মিত্র দেশগুলো। বিভিন্ন সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রণোদনা প্যাকেজের ফলে অন্যান্য কমোডিটির দামও বাড়ছে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক উচ্চমূল্যস্ফীতির আশঙ্কা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো প্রধান ভোক্তা দেশগুলো দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে ওপেক প্লাসকে অনুরোধ জানাচ্ছে।

এদিকে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী বলছেন, বাজারের দিকে দৃষ্টি রাখছে ওপেক প্লাস। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে ২৮ এপ্রিলের পরবর্তী বৈঠকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার ওপেক প্লাসের ভার্চুয়াল বৈঠকে রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক বলেন, বাজারে যেন অতিরিক্ত ঘাটতি বা সরবরাহ সংকট সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।