চলতি বছর জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশাবাদী দেশটির মাত্র অর্ধেক প্রতিষ্ঠান। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার চালানো আগ্রাসনের কারণে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও ডলারের বিপরীতে ইয়েনের অবমূল্যায়নের কারণে অর্থনীতি নিয়ে নেতিবাচক আশঙ্কা বেড়েছে। জাপানভিত্তিক কিয়োদো নিউজের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

১১৭টি প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে, যার মধ্যে টয়োটা মোটর করপোরেশন এবং সফটব্যাংক গ্রুপ করপোরেশনও রয়েছে। শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৫টি প্রতিষ্ঠান বা ৫৬ শতাংশ মনে করে, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চলতি বছর মাঝারি প্রবৃদ্ধির দেখা পাবে। সংখ্যাটা আগের বছরের জরিপে পাওয়া ৮৪ শতাংশের তুলনায় কম।

প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা জরিপে ১০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। মতামত প্রকাশ করা প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে ধীর প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে বলেও ধারণা করছে।

নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বরের মাঝ বরাবর পরিচালিত জরিপে ৪০টি অর্থাৎ ৩৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বলছে, অর্থনীতি সমতলে থাকবে। যেখানে সাতটি প্রতিষ্ঠানের ধারণা মাঝারি সংকোচন দেখা দিতে পারে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানই মনে করে না যে জাপানের অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে। একাধিক উত্তর দেয়ার সুযোগ থাকায় ৯২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের ধারণা, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে অর্থনীতির নিমজ্জনের পর চলতি বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।

প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করে না এমন অংশগ্রহণকারীদের ৭০ শতাংশ জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়াকে এর কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তার মধ্যে ৪৫ শতাংশ মনে করে ব্যক্তিগত ভোগ আরো মন্থর হবে। অংশগ্রহণকারীদের ৪০ শতাংশ মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে ধীরগতি দেখা দেবে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণ অনুসারে, ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের দাম দ্রুত কমে যাওয়ায় ৪৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মনে করেছে, ইতিবাচক প্রভাব থাকবে। তাছাড়া ২৩ শতাংশ মনে করছে, প্রভাবটা নেতিবাচক হবে। ইয়েনের মান কমে যাওয়ার কারণে রফতানিকারকরা লাভের মুখ দেখবেন। ফলে তাদের দেশের বাইরে চালান দেয়ার ক্ষেত্রে লাভের মাত্রা বেশি হবে।

কিন্তু যখন জাপানের অর্থনীতির ওপর ইয়েনের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন প্রভাবটা ব্যতিক্রম হবে। সেখানে মাত্র ৩২ শতাংশ বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং ৩ শতাংশ ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

ভোক্তারা দৈনন্দিন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন, সেখানে খাবার ও জ্বালানির দামও রয়েছে। মোট ৩৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানায়, তারা বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, তবে ৪৮ শতাংশ জরিপের সময় কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।