সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির সুযোগ চায় বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। সংগঠনটি বলছে, নতুন আমদানি নীতির কারণে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে পরিবেশবান্ধব গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রাজধানীতে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে বারভিডার সভাপতি আব্দুল হক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নির্দিষ্ট বয়স ও কারিগরি সক্ষমতার ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রিত ও শর্তসাপেক্ষে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ পুনর্বহাল করা প্রয়োজন।’

সংগঠনটি প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ব্যবহৃত ইভি আমদানির অনুমোদন, ব্যাটারির ন্যূনতম ৭০ শতাংশ স্টেট অব হেলথ (এসওএইচ) নির্ধারণ এবং আমদানির আগে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিদর্শন ও প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে। বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, গুরুতর দুর্ঘটনা বা কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইভি আমদানি নিষিদ্ধ করারও দাবি জানিয়েছে বারভিডা।

সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি-রফতানি হচ্ছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে এসব গাড়ির রফতানি প্রবাহও বাড়ছে। যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ ১০ বছর, জর্জিয়ায় ছয় বছর, কেনিয়ায় আট বছর এবং সৌদি আরবে পাঁচ বছর পর্যন্ত ব্যবহৃত ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও নিরাপদ অপসারণ কাঠামো প্রণয়ন এবং চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং ও ব্যাটারি ডায়াগনস্টিক খাতে বিনিয়োগে প্রণোদনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বারভিডা।

সংগঠনটির নেতাদের দাবি, রিকন্ডিশন্ড ইভি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলে তা মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আসবে। এর ফলে ইভির বাজার দ্রুত সম্প্রসারণের পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে মোটরযান খাতে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের সরকারি লক্ষ্য পূরণেও সহায়ক হবে।