মার্চে চীনে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ কমেছে। দেশটির স্ট্যাটিস্টিকস ব্যুরো সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। জলবায়ুসংক্রান্ত বিধিনিষেধ ও নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় কারখানাগুলোয় উৎপাদন নিম্নমুখী।

ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (এনবিএস) জানায়, বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক দেশটি গত মাসে ৮ কোটি ৮৩ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করে। গত বছরের একই সময়ে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার টন।

এনবিএসের তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, শিল্প ধাতুটির গড় দৈনিক উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টনে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। তখন চীনে দৈনিক ৩০ লাখ ৩০ হাজার টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল। তবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে গড় দৈনিক উৎপাদন বেড়েছে। ওই দুই মাসে চীন প্রতিদিন ২৬ লাখ ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করেছিল।

গত বছর থেকেই দেশটির উত্তরাঞ্চলের কারখানাগুলোয় ইস্পাত উৎপাদন সীমিত করা হয়। উদ্দেশ্য দূষণ কমানোর মাধ্যমে বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করা। তবে সম্প্রতি চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেশটির ইস্পাত উৎপাদন ও ব্যবহারকে নিম্নমুখী করে তুলেছে।

বেইজিংভিত্তিক সিআইএফসিও ফিউচারসের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্লেষক তাং বিংহুয়া বলেন, কভিড-১৯ জনিত বিধিনিষেধে ইস্পাত কারখানাগুলো কাঁচামালের মজুদ পরিপূর্ণ করতে পারেনি। এ বিষয়ই উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

স্ট্যাটিস্টিকস ব্যুরোর তথ্য বলছে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ১০ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ওই সময় সব মিলিয়ে ২৭ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল।

ভাইরাসের আঘাতে বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮ শতাংশে নেমেছে। গত মাসের শেষ দিকে দেশটির তাংসেন সিটিতে সাময়িক লকডাউন ঘোষণা করা হয়। শহরটি ইস্পাত উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। লকডাউন ও বিধিনিষেধের কারণে প্লান্টগুলো উৎপাদন কমিয়ে আনতে ও ক্ষেত্র বিশেষে বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।

অন্যদিকে সাংহাই শহরেও কঠোর লকডাউন চলছে। উইহানে প্রথম করোনা সংক্রমণের পর এবারই শহরটিতে তা এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ কারণে ধাতুটির পরিশোধন ও ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ধাতুটির ব্যবহার সর্বোচ্চে থাকে।