দীর্ঘদিন ধরেই ভেঞ্চার ক্যাপিটালের বিনিয়োগকারীদের জন্য অন্যতম গন্তব্য এশিয়া। তবে ২০২২ সালজুড়ে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত, মূল্যস্ফীতির কারণে চুক্তিসংক্রান্ত জটিলতা, রাজনৈতিক উত্তেজনা, শেয়ারবাজারের বিলম্বিত তালিকাভুক্তি, তহবিল ঘাটতি সব মিলিয়ে ২০২২ সালটি বিশ্বের ভেঞ্চার বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশৃঙ্খল বছরে পরিণত হয়। বহুমাত্রিক উত্থান আর পতনের একটি বছর পর, বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে ২০২৩ সালটি এশিয়া অঞ্চলের জন্য অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করবে। যদিও গত বছরের চ্যালেঞ্জগুলো ঝেড়ে ফেলতে সময় লাগতে পারে।
লন্ডনভিত্তিক বিনিয়োগ তথ্য কোম্পানি প্রিকিনের দেয়া তথ্য অনুসারে, গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল রেকর্ড পরিমাণ ১০ হাজার ৭৯০ কোটি ডলার মূল্যের ভেঞ্চার ক্যাপিটালভিত্তিক চুক্তি করেছে। যেখানে ২০২১ সালের পূর্ণ বছরজুড়ে চুক্তির পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।
এশিয়াজুড়ে বেশির ভাগ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল-নির্ভর বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা হয় চীন ঘিরে, যার মূল্যমান ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। বাজার গবেষণা সংস্থা পিচবুকের তথ্য অনুসারে, যা ২০২১ সালের ১৩ হাজার ৮৫০ কোটি ডলার মূল্যের অর্ধেকেরও কম।
এ সম্পর্কে প্রিকিনের জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক অ্যাঞ্জেলা লাই বলেন, ‘যখন আমরা এশিয়া অঞ্চলের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সম্পর্কে কথা বলি, আমরা সত্যিই চীন সম্পর্কে অনেক কিছু বলি। কেননা চীনকে ঘিরেই বেশির ভাগ কার্যক্রম আবর্তিত, বিপরীতে এখন চীনে মন্থরতা সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয়।’
চীন বর্তমানে কভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলার বিপরীতে কঠিন সময় পার করছে। তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেইজিংয়ের তিক্ত সম্পর্ক, ইউক্রেনে যুদ্ধ এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি উভয় বাজার পরিস্থিতি অনেকটাই স্থরিব হয়ে পড়েছে।
ভেঞ্চার ক্যাপিটাল চুক্তির পরিমাণ অনুসারে এশিয়ার পাঁচটি পরবর্তী-বৃহত্তর বাজারের মধ্যে রয়েছে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া।
সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটালের অংশীদার ফার্ম এনএলভিসির জেফরি লি বিষয়টি সমর্থন করে বলেন, ‘আমরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিশ্চিত যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইতিহাসে ২০২৩ সালটি সম্ভবত বিনিয়োগের সেরা বছরগুলোর মধ্যে একটি হবে। যদিও চুক্তির সংখ্যা হয়তো ব্যাপকভাবে বাড়বে না, তবে গুণগতমান বাড়বে এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে আয় হতে পারে।’
অস্থির বাজার পরিস্থিতির পাশাপাশি সক্ষমতার ঘাটতি নতুন তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকটি কোম্পানিকে নাজুক অবস্থায় ফেলেছে। বিশ্বব্যাপী ১ হাজার ৩৩৩টি আইপিও থেকে ২০২২ সালে ১৭ হাজার ৯৫০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা হয়। তথ্যটি তৈরি করা হয়েছে আগের বছরের তুলনায় ৬১ শতাংশ কম মূল্য ও বছরে ৪৫ শতাংশের কম চুক্তি অনুসারে।
২০২২ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনকেন্দ্রিক ভেঞ্চার ক্যাপিটালগুলো ৮৯০ কোটি ডলার সংগ্রহ করে, যা ২০২১ সালের মোট সংগৃহীত ৩ হাজার ৪৪০ কোটি ডলারের এক-চতুর্থাংশেরও কম। প্রিকিনের তথ্য অনুসারে, যদিও তা ২০১৭ সালে অর্জিত ৯ হাজার ৭৪০ কোটি ডলারের কাছাকাছি নয়।
অন্যদিকে একই সময়কালে ভারতকেন্দ্রিক তহবিলগুলো ৪৭০ কোটি ডলার সংগ্রহ করে, যা ২০২১ সালে সংগৃহীত মোট ৩৭০ কোটি ডলারের কম। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেও একই প্রবণতা দেখা যায়। ২০২২ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে সংগ্রহ হয় ১৩০ কোটি ডলার, যা ২০২১ সালের সংগৃহীত ১১০ কোটি ডলারের তুলনায় বেশি। ইন্দোনেশিয়ায় বিনিয়োগকারীরাও ই-কমার্স ও ফিনটেকে এ ধরনের বিনিয়োগ আসবে বলে আশাবাদী।
তবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংক্রান্ত কার্যকলাপে চীনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আগে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া উভয়কেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। পিচবুকের তথ্য অনুসারে, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় স্টার্টআপগুলো সংগ্রহ করে ২২৫ কোটি ডলার। যেখানে ইন্দোনেশিয়া ৩৪০ কোটি মূল্যের ভেঞ্চার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। তবে একই সময়ে চীন ৬৫০ কোটি ডলারের রেকর্ড মূল্যের চুক্তি করতে সমর্থ হয়।










