নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা ধসে পড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শ্লথতার জেরে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ব্যতীত বেশির ভাগ ভোগ্যপণ্যের চাহিদা কমে গেছে। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে কফি বাজারে। লকডাউনের মধ্যে পানীয় পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদায় উল্লম্ফন ঘটেছে। এদিকে পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় বাজারে পণ্যটির সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি স্বল্প মেয়াদে কফির বাজার চাঙ্গা করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
কফির বাজার নিয়ে কফি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৪ এপ্রিল নিউইয়র্কের ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) আগামী মে মাসে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি কেজি কফির গড় মূল্য দাঁড়িয়েছিল ১৮৮ দশমিক শূন্য ৫ রুপি। একই বাজারে আগামী সেপ্টেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে পানীয় পণ্যটির মূল্য বেড়ে ১৯১ দশমিক ৮৬ রুপিতে উন্নীত হতে পারে।
এছাড়া লন্ডন ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল ফিউচারস ও অপশনস এক্সচেঞ্জে মে মাসে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি কেজি রোবাস্তা কফির গড় মূল্য ছিল ৮৫ দশমিক ৪৯ রুপি। আগামী সেপ্টেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে পণ্যটির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৮৯ দশমিক ৯৪ রুপিতে উন্নীত হতে পারে বলে মনে করছে কফি বোর্ড অব ইন্ডিয়া।
এদিকে ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশনে (আইসিও) সূচকে ২২ এপ্রিল প্রতি কেজি কফির গড় মূল্য ছিল ২৬২ দশমিক ৫৪ রুপি। পণ্যটির আগের দাম ছিল ২৬১ দশমিক ৫ রুপি। এ সময় প্রতি কেজি রোবাস্তা কফির গড় মূল্য ছিল ১০২ দশমিক ৯২ রুপি।
আইসিওর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বিশ্বজুড়ে কফি ব্যবহারে চাঙ্গা ভাব বজায় থাকতে পারে। ২০১৯-২০ মৌসুমে পণ্যটির বৈশ্বিক ব্যবহার আগের মৌসুমের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১৬ কোটি ৯৩ লাখ ৪০ হাজার ব্যাগে (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) উন্নীত হতে পারে।
খাতসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, কভিড-১৯-এর প্রভাব না পড়লে চলতি মৌসুমে কফির বৈশ্বিক ব্যবহার আরো বাড়ত। কেননা প্রাণঘাতী ভাইরাসটির কারণে পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা যথেষ্ট ঝুঁকির মধ্যে থাকা সত্ত্বেও গত মৌসুমের তুলনায় চাঙ্গা থাকতে পারে। এমনকি নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ কাটিয়ে ২০১৯-২০ মৌসুমে কফির বৈশ্বিক ব্যবহার পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদনকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আইসিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে মোট ১৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যাগ কফি উৎপাদন হতে পারে। সে হিসেবে চলতি মৌসুমে পানীয় পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদনের তুলনায় বৈশ্বিক ব্যবহার ৪ লাখ ৮০ হাজার ব্যাগ বেশি থাকতে পারে।
তবে এগুলো একেবারে প্রাথমিক অনুমান। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, লকডাউন উঠে গেলে কফির বৈশ্বিক ব্যবহারে নেতিবাচক প্রবণতা শুরু হবে। নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে মন্থর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বেকারত্ব বৃদ্ধি এক্ষেত্রে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে সরবরাহ সংকটে পণ্যটির মূল্যবৃদ্ধি কেবল স্বল্প মেয়াদেই সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন পণ্যটির বাজার বিশ্লেষকরা।










