রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্য বিশেষ করে গম ও ভুট্টা সরবরাহ সংকটের উদ্বেগ প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ পরিস্থিতিতে শস্য দুটির আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ব্রাজিল। উদ্দেশ্য বাজারে আকর্ষণীয় দাম ও চাহিদার সুবিধা নেয়া। দেশটিতে গম ও ভুট্টার উৎপাদন বাড়লে তা বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস জানায়, ২০২২-২৩ মৌসুমে গম ও ভুট্টা আবাদ বাড়াতে চায় ব্রাজিল। তবে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের কারণে দেশটিতে শস্য দুটির আবাদ বাড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত সারের মজুদ আছে কিনা তা প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২২-২৩ মৌসুমে দেশটি ২ কোটি ২৫ লাখ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ করবে। আবাদি জমির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ১০ লাখ হেক্টর বাড়বে। উৎপাদনের পরিমাণও দাঁড়াবে ২ কোটি ২৫ লাখ টনে। অন্যদিকে ৩৪ লাখ হেক্টর জমিতে গম আবাদ করা হতে পারে। শস্যটির উৎপাদন পৌঁছবে ৯০ লাখ টনে।

ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস জানায়, আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও সার ঘাটতির কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দেশটির সব অঞ্চলের পরিস্থিতি একই রকম নয়। কোনো কোনো অঞ্চলে পর্যাপ্ত সারের মজুদ রয়েছে। সার ঘাটতির প্রতিবন্ধকতা থেকে উত্তরণে দেশটিতে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর অনেক বেশি নির্ভর করতে হবে বলেও মনে করছে সংস্থাটি। প্রাক্কলন অনুযায়ী, ভুট্টা উৎপাদন গত বিপণন মৌসুমের তুলনায় ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। এর মধ্য দিয়ে শস্যটির উৎপাদন নতুন রেকর্ড গড়তে সক্ষম হবে।

ব্রাজিল বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ভুট্টা উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ। সারের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি ও অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে দেশটির চাষীরা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে পারেন। ব্রাজিলের কৃষি খাতে যে পরিমাণ সার ব্যবহার করা হয় তার ১৭ শতাংশই ব্যয় হয় ভুট্টা উৎপাদনে। দেশটি বিশ্বের মধ্যে শীর্ষ সার আমদানিকারকও বটে। রাশিয়া, কানাডা, চীন, মরোক্কো, যুক্তরাষ্ট্র ও বেলারুস লাতিন আমেরিকার এ দেশে সবচেয়ে বেশি সার সরবরাহ করে।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার সার সরবরাহ অব্যাহতভাবে কমবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। যুদ্ধ বন্ধ না হলে এ সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে সারের সংকট অনিবার্য। তবে সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান কত দূর পর্যন্ত যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এদিকে ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে ব্রাজিলের ভুট্টা রফতানি আগের মৌসুমের তুলনায় ১০ লাখ টন বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ। রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৪ কোটি ৫০ লাখ টনে। মূলত উৎপাদন বাড়ার প্রত্যাশায় রফতানি পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। তবে উৎপাদন যদি প্রাথমিক প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়, তবে রফতানিও কমবে।

অন্যদিকে প্রাক্কলন অনুযায়ী, ব্রাজিলে গম আবাদ আগের মৌসুমের তুলনায় ২৫ শতাংশ বাড়বে। প্রতি হেক্টরে ২৫ লাখ ৯০ হাজার টন করে উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস বলছে, ২০২২-২৩ মৌসুমে ব্রাজিল গম উৎপাদনের রেকর্ড ভাঙতে পারে।

সারের চলমান সংকটের মধ্যে দেশটি প্রথম গম আবাদ করতে যাচ্ছে। ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস জানায়, শীতকালীন শস্য আবাদের জন্য যে পরিমাণ সারের চাহিদা ছিল তার জন্য যুদ্ধের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এসব সার ব্রাজিলে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। তবে চুক্তিকৃত সারের শতভাগই দেশটিতে পৌঁছবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২২-২৩ মৌসুমে ব্রাজিল ৩০ লাখ টন গম রফতানি করতে সক্ষম হবে।