বিনিয়োগ ব্যাংকিং ইউনিটের উদ্ভাবন ও পরামর্শ বিভাগ থেকে কর্মী ছাঁটাই করেছে জার্মানভিত্তিক ডয়চে ব্যাংক। আর্থিক চুক্তির ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর রয়টার্স।
সম্প্রতি ব্যাংকটির মার্কিন কর্মীদের দিয়ে ছাঁটাইয়ের এ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে ঠিক কতজন কর্মী ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন তা নিশ্চিত করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকারদের সংখ্যা সমন্বয়ের জন্য বার্ষিক অনুশীলনের অংশ হিসেবে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা মূলত ২০২১ সালে চুক্তিবদ্ধ হন।
চীন-আমেরিকার মধ্যকার উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাকেই ব্যয় সমন্বয় জরুরি। ব্লুমবার্গ ও নিউইয়র্ক পোস্ট বলছে, কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যাংকটির জুনিয়র ব্যাংকারদের ওপর।
গত মাসে ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসেরও কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার কথা শোনা যায়। কভিড-১৯ মহামারীর সেই অনুশীলন এখনো অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে কর্মী ছাঁটাই বিষয়ক খবরের বিপরীতে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি ব্যাংকটির মুখপাত্ররা।
পদক্ষেপটি মূলত ডয়চে ব্যাংকের জন্য একটি ধাক্কা। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিনিয়োগ ব্যাংকটি এর আগের সমস্যাগুলো থেকে বেরিয়ে শক্তিশালী রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হয়।
সম্প্রতি জ্যেষ্ঠ বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকিং পরিষেবা সম্প্রসারণের কথা বলেন। জার্মানির বৃহত্তম এ ব্যাংক গত বছর নতুন কর্মীদের নিয়োগ দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রটি বলেছে, ব্যাংকটি শিল্প, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উদ্ভাবন ও পরামর্শ বিভাগগুলোয় বেছে বেছে বিনিয়োগ করে চলেছে। ২০২২ সালে ব্যাংকটি বিশ্বব্যাপী ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৫ জন ব্যাংকারকে নিয়োগ দেয়। এর মধ্যে রয়েছেন রবার্ট লি, যিনি আমেরিকার প্রযুক্তি, মিডিয়া ও টেলিকমের (টিএমটি) সেমিকন্ডাক্টর সেক্টরের প্রধান।
বছরের পর বছর লোকসান ও ছাঁটাইয়ের পর এ ধরনের নিয়োগ প্রদান ছিল তাত্পর্যপূর্ণ। কিন্তু ব্যয় ব্যবস্থাপনা ডয়চে ব্যাংকের চিরায়ত সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। গত জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের গোটা বছরের খরচ সম্পর্কিত লক্ষ্যমাত্রা পর্যন্ত বাদ দিয়েছে।
মনে করা হচ্ছে, চলতি বছর ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী ক্রিস্টিয়ান সোয়িংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে ঢেলে সাজানোর জন্য ২০১৯ সালের ব্যয়বহুল এক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন।
আগামী সপ্তাহে ব্যাংকটি তৃতীয় প্রান্তিকের আয়ের প্রতিবেদন দেবে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, ডয়চে ব্যাংক টানা নয় মাস মুনাফার খবর দিতে পারবে। বছরের পর বছর লোকসানের পর ব্যাংকটির মুনাফার খবরকে তাত্পর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।










