যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়তে চায় চীনা কোম্পানি শেইন। এজন্য চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়েছে ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানটি। মূলত এর মাধ্যমে চীনের বাইরে ব্যবসা করে বহুজাতিক কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায় শেইন। কোম্পানিটির সঙ্গে যুক্ত দুটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পেতে কিছুটা দেরি হতে পারে বলে জানা গেছে। খবর রয়টার্স।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্তির জন্য শেইন যে চেষ্টা করছে, তা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি রাজনৈতিক দল এ নিয়ে জনগণকে বিভক্ত করে দিতে পারে। কংগ্রেসের একটি পক্ষ এরই মধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছে শেইনের প্রস্তাব আটকে দেয়ার জন্য আবেদন করেছেন। কংগ্রেস সদস্যদের দাবি, শেইন বাধ্যতামূলক শ্রমে অভিযুক্ত। যতদিন এ অভিযোগের মীমাংসা না হচ্ছে, ততদিন অনুমতি দেয়া যাবে না।

শেইনের দুটি সূত্র জানায়, গত বছরের মে মাসে তহবিল সংগ্রহের সময় কোম্পানির সম্পদমূল্য ৬ হাজার ৬০০ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত নভেম্বরে চায়না সিকিউরিটিজ রেগুলেটরি কমিশনের কাছে মার্কিন আইপিওর পরিকল্পনা জমা দেয় শেইন। এর আগে ২০২২ সালে কোম্পানির সদর দপ্তর নানজিং থেকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

১৫০-এর বেশি দেশে সস্তায় ফ্যাশনপণ্য বিক্রয় করে শেইন। কোম্পানিটি গত নভেম্বরে গোপনে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে আইপিওর অনুমোদন পেতে আবেদন করে। তবে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এখন পর্যন্ত সে আবেদনে সাড়া দেয়নি। রয়টার্সের পক্ষ থেকে এ নিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে শেইন তা জানাতে অস্বীকার করেছে। এছাড়া চায়না সিকিউরিটিজ রেগুলেটরি কমিশন ও মার্কিন সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন কোনো বক্তব্য দেয়নি। রয়টার্স যেসব সূত্রের সঙ্গে কথা বলেছে তারা গণমাধ্যমে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। এর কারণ এসব ব্যক্তি গণমাধ্যমে বক্তব্য দেয়ার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত নন।

বিশ্লেষকরা জানান, ভিন্ন দেশের পুঁজি বাজারে নিবন্ধন পেতে দেশীয় কোম্পানির জন্য নতুন নীতিমালা করেছে বেইজিং। এ নতুন নীতিমালা মেনেই আবেদন করেছে শেইন।

চায়না সিকিউরিটিজ রেগুলেটরি কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, একটি কোম্পানির সদর দপ্তর যদি বিদেশে থাকে, অথবা বিদেশ থেকে ৫০ শতাংশ বা এর অধিক পরিচালন মুনাফা অর্জিত হয়, সব সম্পদ বা নিট সম্পদ চীনা ভূখণ্ডে উৎপাদিত হয়, তাহলে সে কোম্পানির জন্য দুটি বিকল্প থাকবে। হয় কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কেন্দ্র হবে চীন, অথবা কোম্পানিটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে চীনা নাগরিক বা চীনে বসবাসকারী হতে হবে।