গাড়ির ব্র্যান্ড সেন্টার নয়, যেন আর্ট গ্যালারি! এমন উদাহরণ তৈরি করেছে দুবাইয়ের মার্সিডিজ-বেঞ্জ ব্র্যান্ড সেন্টার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জনবহুল শহরটির বিখ্যাত গারগাশ গ্রুপ সম্প্রতি মার্সিডিজ-বেঞ্জের বিক্রয় কেন্দ্রটি উন্মোচন করেছে। ব্র্যান্ড সেন্টারটি সাধারণ কোনো শোরুম নয়, বরং আরো বেশি কিছু। স্থানীয় ক্রেতা ও ব্র্যান্ডটির অনুরাগীদের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের কেন্দ্রবিন্দু হতে চায় এ সেন্টার। যার মধ্যবর্তী খোলা স্থানটি টাউন স্কয়ার নামে পরিচিত। অবস্থানগত দিক থেকেই হোক বা স্থাপত্যগত আকর্ষণ, স্থাপনাটির সক্ষমতা ও মনোরম নকশা খুব সহজেই নজর কাড়বে অতিথিদের। সেন্টারের ভেতরে প্রদর্শনী, সেমিনার, বিনোদন ও শিল্পচর্চার জন্যও বিশেষায়িত জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে।

বাঁকানো গ্লাসে ঘেরা মেব্যাচ লাউঞ্জ রয়েছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ ব্র্যান্ড সেন্টারে। যেখান থেকে চারপাশের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। পাশেই রয়েছে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মার্সিডিজ-এএমজি মডেলের প্রদর্শনী। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হতে পারে ‘দ্য কার ওয়াল’ নামের ৭৬টি গাড়ির ডিসপ্লে। অফার হিসেবে ভবনে আরো ‍যুক্ত করা হয়েছে ড্রাইভিং অ্যাডভেঞ্চার। যারা নিত্যনতুন ব্র্যান্ড নিয়ে আগ্রহী, তাদের অভিজ্ঞতার ভাঁড়ার পূর্ণ হবে তরতাজা সব কালেকশনের সঙ্গে পরিচিত হয়ে। তারা মার্সিডিজ-বেঞ্জ এসইউভির অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।

ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে টেকসই জলবায়ু ব্যবস্থাপনার বিষয়টি মাথায় রাখা হয়েছে। সোলার প্যানেল থেকে সেন্টারের মোট বিদ্যুতের ২৫ শতাংশের সরবরাহ হয়। লাগানো হয়েছে স্থানীয় ও খরা সহনীয় গাছপালা। সেচের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। 

অতীত ও ভবিষ্যতের মেলবন্ধনকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এ ব্র্যান্ড সেন্টারে। আগামী প্রজন্মের সম্পূর্ণ বিদ্যুচ্চালিত মার্সিডিজ-বেঞ্জের নমুনা দেখা যাবে এখানে। ভবনের ভেতরেই থাকছে ১৫টি চার্জিং স্টেশন, যাদের মধ্যে আবার চারটি দ্রুত সময়ে চার্জ দিতে সক্ষম। 

গাড়িপ্রেমীদের জন্য পাশেই বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে নানা ধরন ও মডেলের ওপর ভিত্তি করে গাড়িসংশ্লিষ্ট পণ্য রাখা হয়েছে। রয়েছে বেবি স্ট্রলার থেকে শুরু করে অভিজাত সব সামগ্রী। আর সবশেষে রয়েছে ক্যাফে হাউজ। দর্শকের জন্য বিশ্রামাগার ও অবকাশযাপন কেন্দ্র হিসেবে তৈরি হওয়া স্থাপনাটির চত্বর রঙবেরঙের ফ্রেসকো দ্বারা সাজানো।

২০২৩ সাল থেকে মার্সিডিজ-বেঞ্জ বিভিন্ন দেশে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ম্যাথিয়াস লুহার্স জানান, ২০৩০-৩২ সালের মধ্যে সব গাড়ি বিদ্যুচ্চালিত করে ফেলার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে গত নভেম্বরে নতুন পাঁচটি মডেল উন্মুক্ত করেছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ। খবর খালিজ টাইমস