বৈশ্বিক মহামারীর প্রভাব পড়েনি এমন খাত খুঁজে পাওয়া কঠিন। ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে ভারতে অনেক দিন ধরে লকডাউন চলছে। এর সঙ্গে রয়েছে নানা ধরনের সরবারি বিধিনিষেধ। এতে দেশটির যেসব খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে চা অন্যতম। এ ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির কনোড়ে অনুষ্ঠিত চা নিলামগুলোর আয় ২৭ শতাংশ কমে গেছে। খবর বিজনেস লাইন।

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের পাহাড়ি জেলা নীলগিরি কনোড় পৌরসভা চা উৎপাদন ও বিপণনের জন্য প্রসিদ্ধ। কনোড় টি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (সিটিটিএ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত কনোড়ে অনুষ্ঠিত নিলামগুলোর মাধ্যমে চায়ের ক্রয়-বিক্রয় করা উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা বছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট ১৬ কোটি ৭৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি রুপি আয় করেছে। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২২ কোটি ৯৮ লাখ ২০ হাজার রুপি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তাদের আর্থিক লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬২ লাখ ৩ হাজার কোটি রুপি বা ২৭ শতাংশ।

এ আর্থিক ক্ষতির জন্য নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকেই দায়ী করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ভাইরাসটির কারণে নিলাম বাতিলসহ অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যটির চাহিদা ব্যাপক হারে কমে গেছে। একই সঙ্গে পানীয় পণ্যটির রফতানি চাহিদাও কমতির দিকে রয়েছে। এছাড়া এ সময়ে পণ্যটির দামে মন্দা ভাব লোকসানের বোঝা আরো ভারী করেছে।

সিটিটিএর তথ্য অনুযায়ী, মহামারীকালীন নানা ধরনের জটিলতায় গত মার্চে কনোড়ে মাত্র তিনটি চায়ের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর এপ্রিলে মাত্র একটি এবং সর্বশেষ মে মাসে পুনরায় চালুর আগে চারটি নিলাম বাতিল হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) পর্যন্ত কনোড়ের নিলামে চায়ের বিক্রি অনেক কমে গেছে। এ সময়ের মধ্যে নিলামে যে পরিমাণ চা এসেছে, তার মধ্যে ১ কোটি ৯২ কেজি চা বিক্রি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৩২ লাখ কেজি। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে কনোড়ে পানীয় পণ্যটির বিক্রি কমেছে ৩৯ লাখ কেজি। এমনকি দামে ব্যাপক ছাড় দেয়ার পরও পণ্যটির বিক্রি বাড়াতে পারেনি বিক্রেতারা।

এ সময়ের মধ্যে পণ্যটির গড় মূল্য কমিয়ে কেজিপ্রতি ৮৭ দশমিক ৩৯ রুপি ধার্য করেছিল বিক্রেতারা। গত বছরের একই সময়ে প্রতি কেজি চায়ের গড় দাম ছিল ৯৯ দশমিক ৪৯ রুপি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজি চায়ে বিক্রেতাদের গড় আয় কমেছে ১২ দশমিক ১০ রুপি।