কয়লার ওপর চীনের অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞায় চরম বিপাকে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। দুই দেশের বাণিজ্য দ্বৈরথের ফলে ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে অস্ট্রেলিয়ার কয়লা রফতানি। অন্যদিকে বিশাল পরিমাণ রফতানি বন্ধ থাকায় কমেছে কয়লার দামও। দেশটির সম্পদ ও জ্বালানিবিষয়ক সংস্থার অতি সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমনটা উঠে এসেছে। খবর নিউজ ডটকম অস্ট্রেলিয়া।

মার্চে প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ার রিসোর্সেস অ্যান্ড এনার্জি কোয়ার্টারলির (আরইকিউ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির ওপর চীনের অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা কয়লা বাণিজ্যের ওপরে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে থার্মাল কোলের (তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহূত কয়লা) ওপর রফতানি বন্ধের প্রভাব খুব ভালোভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে দেশটিতে।

মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাপ কয়লা ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ইস্পাত তৈরিতে ব্যবহার হওয়া উচ্চমানসম্পন্ন ধাতুর বিপরীতে তাপ কয়লা ব্যবহার হয়।

তাপ কয়লার বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। বৈশ্বিক মোট রফতানির ২০ শতাংশ ব্যবহার করে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি। এর মধ্যে কেবল চীন থেকেই গত বছর ২৫০ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থের কয়লা আমদানি করে চীন। কিন্তু গত বছর থেকেই চীনের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলীয় কয়লা আমাদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে দেশটির কয়লা খাতের রফতানি আয়। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় ২০২০ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশটির রফতানির ইতিহাসে বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় ধস নামে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদের দপ্তরের দেয়া এক প্রতিবেদন বলছে, ২০২০ সালে দেশটির রফতানি রাজস্ব সবচেয়ে বড় পতনের মুখে পড়ে। অর্থাৎ ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার রাজস্ব আয় ২০২০ সালে সর্বনিম্নে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনের পূর্বাভাসে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে থার্মাল কোল থেকে অস্ট্রেলিয়ার রফতানি ২ হাজার ১০০ কোটি থেকে ৬০০ কোটি ডলার কমে যাবে। অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে থার্মাল কোল থেকে দেশটির আয়ের পরিমাণ কমে দাঁড়াবে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে। আর কয়লা রফতানির পরিমাণ ২১ কোটি ৩০ লাখ থেকে কমে দাঁড়াবে ২০ কোটি ৬০ লাখ টনে।

প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ার জন্য মোটাদাগে পীড়াদায়ক হিসেবে আরেকটি বিষয় উঠে এসেছে। সেটি হলো অস্ট্রেলীয় মদের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে আরো প্রভাবিত করতে পারে। এমনকি বিষয়টি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা পর্যন্ত গড়ানো নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি এক ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন।

তবে প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে, চীনের অনানুষ্ঠানিক আমদানি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব খুব বেশি একটা পড়তে দেয়নি অস্ট্রেলিয়া। কারণ চীনের অল্লিখিত নিষেধাজ্ঞার তাত্পর্য অনুধাবন করতে পেরে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের বাণিজ্যিক সমঝোতা ঠিক করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

চীনের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়াকে বাদ দিয়ে চীন যে সময়টিতে ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, কলম্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের কয়লার চাহিদা পূরণ করছিল; অস্ট্রেলিয়া তখন এ অঞ্চলের অন্য ভোক্তা দেশগুলোর মাধ্যমে তাদের বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা করতে পেরেছে। এ সময় তারা চীনের বিপরীতে ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের থার্মাল কোল রফতানি বাড়ায়।

মূলত চীনের সঙ্গে ২৫০ কোটি ডলার রফতানি বাণিজ্যের ঘাটতি পোষাতে গত বছর জাপানের কাছে ৬৯০ কোটি ডলারের কয়লা রফতানি করে অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া ২১০ কোটি ডলার, তাইওয়ান ১৯০ কোটি ডলার ও ভারত ৫০ কোটি ডলারের অস্ট্রেলীয় কয়লা আমদানি করে।

তবে কয়লা রফতানির ঘাটতি পুষিয়ে নিতে পারলেও এর দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলে আরইকিউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।