আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কাতারে শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২। ফুটবলে বিশ্বসেরার মুকুট জিততে মাঠের লড়াইয়ে নামবে ৩২টি দল। আর খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে ও গ্যালারি মাতাতে প্রায় ১২ লাখ সমর্থকের আনাগোনায় ভরে উঠবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। তবে কাতারে অনুষ্ঠিত হওয়া এ বিশ্ব আসর থেকে কী কী উপায়ে নিজেদের পকেটে নগদ কিছু রোজগার করা যায় সেসব নিয়ে এরই মধ্যে হিসাব-নিকাশ কষছে নিকটবর্তী আরব আমিরাতের জাঁকজমকপূর্ণ শহর দুবাই।

এরই মধ্যে অনেক ফুটবল ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বিশ্বকাপের আসর চলাকালীন ৪৫ মিনিটের দূরত্বের আকাশচুম্বী সুউচ্চ অট্টালিকার শহর, সমুদ্রসৈকতের শহর-রাজ্য দুবাই থেকে কাতারে যাতায়াত করবেন। এছাড়া অন্যান্য অনেক ফুটবল সমর্থক জানিয়েছেন, তারা কাতারের জনবহুল রাজধানী দোহায় না থেকে প্রমোদতরীতে ঘুমাবেন কিংবা মরুভূমিতে ক্যাম্প আউটের পরিকল্পনা করেছেন।

বিশ্বকাপ ঘিরে দুবাইয়ের এয়ারলাইনস, বার, রেস্তোরাঁ, শপিং মল ও অন্যান্য আকর্ষণীয় স্থান লাভবান হওয়ার আশা করছে। নভেল করোনাভাইরাস মহামারীতে বড় ধাক্কা লেগেছিল দেশটির পর্যটন খাতে। পরে অবশ্য শীত মৌসুমে তাদের পর্যটন শিল্প বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সক্ষম হয়েছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিশেষজ্ঞ জেমস সোয়ানস্টন বলেন, যদি আপনি কাতারে থাকার সুযোগ না পান, তবে দুবাই হলো এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি একজন বিদেশী পর্যটক হিসেবে যেতে চাইবেন। এটি আরো নিরাপদ, পশ্চিমা সংস্কৃতির আদলে অত্যন্ত সহনশীল, উদার এবং পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য।

এখন বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের শহর, অভ্যন্তরীণ স্কেটিং জোনসহ বিলাসবহুল অভিজাত শপিং মল এবং অসংখ্য নাইটক্লাবের আবাসস্থল দুবাই। শহরটি বাঘা বাঘা রিয়েল এস্টেট কোম্পানির উদ্যোগে একসময়ের ধূসর এলাকা থেকে গত ২০ বছরের প্রচেষ্টায় এখন পর্যটন শিল্পে, আবাসন খাতে রমরমা বাণিজ্যের ধামাকা দেখাচ্ছে।

দুবাইয়ের দীর্ঘদূরত্বের যাতায়াতকারী এয়ারলাইনসগুলো দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বিদেশী ভ্রমণের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম বিমানবন্দর গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। দেশটিতে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকে যারা অল্প সময়ের বিরতিতে থাকেন বা তার বেশি সময় ধরে থাকেন। দুবাইয়ে অন্যান্য উপসাগরীয় আরব প্রতিবেশীদের মতো শাসন ব্যবস্থা থাকলেও দেশটিতে মদ্যপান ও রাত্রিকালীন জীবনযাপন বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করছে।

বিশ্বকাপের প্রভাবে হোটেল কক্ষের স্থান সংকুলান ও হোটেল কক্ষের উচ্চমূল্যের বিচারে কাতার পিছিয়ে আছে। যেখানে বিশ্বকাপের সব দল, কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও ভক্তদের জন্য হোটেলের ধারণক্ষমতার সংকট আছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের জন্য তাদের প্রায় ৪৫ হাজার হোটেল কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এজন্য দেশটি ক্যাম্পিং ও কেবিন সাইট তৈরি করেছে, প্রমোদতরী জাহাজ ভাড়া করছে এবং ভক্তদের প্রতিবেশী দেশে থাকতেও উৎসাহিত করছে।

বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো আশপাশের দেশগুলো মনে করছে তাদের দেশগুলোতেও দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়তে পারে। এ দেশগুলোর মধ্যে বাহরাইন একমাত্র দেশ যারা অ্যালকোহল অনুমোদন করে। ইরান কয়েক মাস আগে বিশ্বকাপের দর্শক ও পর্যটকদের কীশ দ্বীপে অবস্থানের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছিল। অবশ্য ইরানে এখন দেশব্যাপী বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তাই বিশ্বকাপের পর্যটকদের তারা আকর্ষণ করতে পারছে না এটা স্পষ্ট।

এদিকে দুবাইয়ে ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি হোটেল রুম আছে। বিশ্বব্যাপী হোটেল শিল্প নিয়ে বিশ্লেষণকারী সংস্থা এসটিআরের একজন সিনিয়র ডিরেক্টর ফিলিপ উলার বলেন, দুবাই বিশ্বের সেরা ১০টি গন্তব্যের মধ্যে একটি, যেখানে পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা আছে। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ মুহূর্তে কাতার যা করতে পারে দুবাই তার চেয়ে বেশি উন্নত ও উচ্চমূল্যের সেবা সরবরাহ করতে পারে।