প্রাচীন মিসরের ফারাও, পিরামিড, পদ্মফুল, স্ক্যারাব ও হায়ারোগ্লিফ। হাজার বছর আগের এসব প্রতীক ফের জায়গা করে নিচ্ছে আধুনিক বিলাসী গহনায়। বিশ্বের বিভিন্ন লাক্সারি গহনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও ডিজাইনার প্রাচীন মিসরের শিল্প ও সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি করছেন নতুন সব অলংকার।

মিসরের গিজায় গত বছরের শেষ দিকে চালু হয় গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম। প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত জাদুঘরে রাখা হয়েছে প্রাচীন মিসরের নানা নিদর্শন। এর মধ্যে রয়েছে ফারাও তুতেনখামেনের বিখ্যাত সম্পদও। জাদুঘরটি উদ্বোধনের সময়ের সঙ্গে মিল রেখেই নতুন উচ্চ মূল্যের গহনার সংগ্রহ আনে ফরাসি প্রতিষ্ঠান ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আরপেলস।

‘ফ্যাসিনেটিং ইজিপ্ট’ নামের এ সংগ্রহে রয়েছে ১৮০টি গহনা। রুবি, পান্না, নীলা ও হীরা দিয়ে তৈরি এসব অলংকারে উঠে এসেছে ফারাও, পিরামিড, পদ্মফুল, স্ক্যাবার (এক ধরনের গুবরে পোকা) ও হায়ারোগ্লিফের মতো মিসরীয় প্রতীক। প্রাচীন ঐতিহ্যকে আধুনিক নকশার সঙ্গে মিলিয়েই এসব গহনা তৈরি করা হয়েছে।

মিসরের প্রাচীন গহনা তৈরির অনেক কৌশলও এখনো ব্যবহার হয়। এর মধ্যে রয়েছে ধাতু উঁচু করে নকশা তৈরি, খোদাই, তারের কাজ, ঢালাই, পাথর বসানো ও পুঁতির কাজ।

একইভাবে জেনেভাভিত্তিক অলংকার ব্র্যান্ড ‘বোগোশিয়ান’ কুইনস অব টাইম কালেকশনে রানী ক্লিওপেট্রার স্মরণে বিশেষ নেকলেস তৈরি করেছে। প্রাচীন মিসরীয় স্বর্ণকারদের কারিগরি দক্ষতা আজও আধুনিক ডিজাইনারদের অবাক করে।

মিসরের বিখ্যাত অলংকার ডিজাইনার আমিনা গালি জানান, হাজার বছর আগের তৈরি তুতেনখামেনের স্বর্ণের মুখোশটিতে ঢালাই পদ্ধতির চমৎকার ব্যবহার রয়েছে, যা আধুনিক প্রযুক্তিতেও নিখুঁতভাবে তৈরি করা প্রায় অসম্ভব।

অ্যামস্টারডামের বিবি ভ্যান ডার ভেলডেন ও এথেন্সের লিটো কারাকোস্টানোগ্লুর মতো স্বাধীন ডিজাইনাররাও এখন মিসরীয় স্ক্যারাব ব্যবহার করে আধুনিক আংটি ও পেনডেন্ট তৈরি করছেন। প্রাচীন মিসরের সৌন্দর্য, রহস্য ও শক্তিশালী প্রতীকগুলো আজও বিশ্বজুড়ে আভিজাত্য ও ফ্যাশনের প্রতীক হিসেবে রাজত্ব করছে।

দ্য ন্যাশনাল অবলম্বনে