চলতি বছরের মে মাসে রাশিয়ার বেকারত্বের হার সর্বনিম্নে নেমেছে। যদিও দেশটির শিল্পোৎপাদন কারখানার উৎপাদন নিম্নমুখী ছিল। অন্যদিকে দেশটিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে চলেছে মূল্যস্ফীতির হারও। খবর রয়টার্স।

যুদ্ধরত রাশিয়ার অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির আর্থিক মন্দাও সন্নিকটে। প্রায় ১০ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে রাশিয়ার মূল্যস্ফীতির হার। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালায় রুশ সেনাবাহিনী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর জের ধরে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

মে মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রাশিয়ার শিল্প-কারখানার উৎপাদন ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। বেশ কয়েকটি খাতে রেকর্ড পরিমাণ লোকসান হয়। বার্ষিক গাড়ি উৎপাদন কমেছে ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রতিকূতা সত্ত্বেও কমেছে রাশিয়ায় বেকারত্বের হার। বছরের মে মাসে বেকারত্ব হার ১ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এইকন তথ্য সংস্থা বলছে, ১৯৯২ সালের পর দেশটিতে বেকারত্বের হার এবার সর্বনিম্ন ছিল। ওই বছর দেশটি প্রথম বেকারত্ব হারের পরিসংখ্যান চালু করে।

অথচ বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস বলছিল, যুদ্ধের কারণে এ বছর রাশিয়ার বেকারত্বের হার ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। রয়টার্সের সমীক্ষা বলছিল, মে মাসে রাশিয়ার বেকারত্বের হার থাকবে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এ পূর্বাভাসের পেছনে যুক্তিও ছিল। যুদ্ধের কারণে বহুজাতিক অনেক সংস্থাই রাশিয়া থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। অনেক প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে রাশিয়ায়।

এ বিষয়ে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী ম্যাকসিম রেশেতনিকোভ বলেন, কর্মসংস্থান বাড়লেও ভোক্তা চাহিদা তুলনামূলক দুর্বল ছিল। রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রভাবক খুচরা বিক্রি। মে মাসে খুচরা বিক্রি ১০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এপ্রিলে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

ভোক্তা চাহিদা কমার পেছনে কর্মীদের বেতন কমানোর দায় রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কর্মীদের বেতন কমেছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এদিকে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস বলছে, এ বছর রাশিয়ার অর্থনীতি ১৫ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী বছর তা ৩ শতাংশ সংকোচন হতে পারে। তবে রাশিয়ার অফিশিয়াল পূর্বাভাস তুলনামূলক কম হতাশাজনক। এ বছর রাশিয়ার দেশীয় উৎপাদন (জিডিপি) ৭ দশমিক ৮ শতাংশ সংকোচনের আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানান দেশটির অর্থমন্ত্রী। পূর্ববর্তী পূর্বাভাস অনুযায়ী জিডিপি সংকোচনের হার ছিল ১২ শতাংশেরও বেশি। এ পূর্বাভাস সত্যি হলে ১৯৯০ সালে সোভিয়েত পতনের পর এবারই রাশিয়ার জিডিপি সবচেয়ে বেশি সংকুচিত হতো।