সম্প্রতি বিদ্যুচ্চালিত গাড়িতে (ইভি) ত্রুটির পরিমাণ বেড়েছে। কোম্পানিগুলো বাজার থেকে গাড়িও প্রত্যাহার করছে। সর্বশেষ দুই হাজারের বেশি বিলাসবহুল সেডান গাড়ি প্রত্যাহার করে নেয় লুসিড গ্রুপ। এর আগে টয়োটা, টেসলা ও নিশান কোম্পানি বিপুল পরিমাণ গাড়ি বাজার থেকে প্রত্যাহার করেছে। এ নিয়ে চিন্তিত ইউরোপীয় কমিশনও। সংস্থাটি এরই মধ্যে কারখানা পরিদর্শন করে গাড়ির ত্রুটি তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তদন্তকারীরা আগামী সপ্তাহে চীনা কারখানাগুলো পরিদর্শন করবেন। তদন্তের অংশ হিসেবে তারা চীনা অটোমেকারদের শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হবে কিনা তাও খতিয়ে দেখবেন।
সর্বশেষ রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, দুই হাজারের বেশি বিলাসবহুল সেডান গাড়ি প্রত্যাহার করেছে লুসিড গ্রুপ। ইভিগুলোর একটি অংশের প্রাথমিক সংস্করণে ত্রুটি ধরা পড়েছে, যা চালকের দৃষ্টিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। লুসিড জানায়, ত্রুটিপূর্ণ উচ্চ ভোল্টেজ কুল্যান্ট হিটারের (এইচভিসিএইচ) কারণে এমনটা ঘটে থাকতে পারে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, স্টিয়ারিং সফটওয়্যার ও ডোর লক সিস্টেমে ত্রুটি থাকায় চীনে ১৬ লাখ গাড়ি প্রত্যাহার করেছে টেসলা। প্রত্যাহার করা গাড়ির মধ্যে রয়েছে এস, এক্স, থ্রি, ওয়াই মডেল ও ৭ হাজার ৫৩৮টি আমদানি করা গাড়ি। টেসলা জানায়, গাড়িগুলো ডিলার বা গ্যারেজে পাঠাতে হয়নি। দূরনিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সমস্যাটি ধরা পড়েছে। এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ লাখ গাড়ি প্রত্যাহার করে টেসলা।
গত বছরের ডিসেম্বরে স্কাইনিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এয়ারব্যাগে ত্রুটির কারণে বিশ্বব্যাপী ১০ লাখ ২০ হাজার গাড়ি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে টয়োটা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২০-২২ সালে বাজারে আসা কিছু মডেল। মডেলগুলো হলো অ্যাভালন, করোলা, আরএভি৪, লেক্সাস ইএস২৫০, ইএস৩০০এইচ, ইএস৩৫০, আরএক্স৩৫০ হাইল্যান্ডার ও সিয়েনা হাইব্রিড। এ মডেলের গাড়িগুলোয় অকুপ্যান্ট ক্ল্যাসিফিকেশন সিস্টেম (ওসিএস) সেন্সরে ত্রুটি রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত বণিক বার্তার খবরে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনে ত্রুটির কারণে বাজার থেকে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৯১টি গাড়ি তুলে নিচ্ছে নিশান মোটর করপোরেশন। ইঞ্জিনে আগুন ধরে যাওয়ার সমস্যা চিহ্নিত হওয়ায় নিশানকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। যেসব গাড়ি প্রত্যাহার করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে এক্স-ট্রায়াল স্পোর্টস কার ও সেরেনা মিনিভ্যান। এসব গাড়ির বেশির ভাগই ২০১০-এর সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে তৈরি।
২০২২ সালের জুনে প্রকাশিত বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ২ হাজার ৭০০ ইভি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে টয়োটা। বিজেডফোরএক্স মডেলের গাড়িগুলোয় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলন্ত অবস্থায় চাকা খুলে যেতে পারে। এজন্য বাজারে ছাড়ার দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে গাড়িগুলো।
গতকাল রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় কমিশনের তদন্তকারীরা আগামী সপ্তাহে চীনের বিওয়াইডি (০০২৫৯৫৪.এসজেড), গিলি (০১৭৫.এইচকে) ও এসএআইসি (৬০০১০৪.এসএস) কারখানা পরিদর্শন করবেন।
ইউরোপীয় কমিশনের সূত্র জানিয়েছে, তদন্তটি গত বছরের অক্টোবরে শুরু হয়েছে, যা ১৩ মাস চলবে। তদন্তকারীরা যাচাই করে দেখবেন যে অপেক্ষাকৃত সস্তা বা চীনে তৈরি ইভিগুলো রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি পেতে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে কিনা। এদিকে এ তদন্তের ফলে বেইজিং ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
ইউরোপীয় কমিশনের বাণিজ্যবিষয়ক মুখপাত্র ওলোফ গিল বলেছেন, ‘কমিশন ২০২৪ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে চীনের কারখানাগুলো পরিদর্শন করবে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিওয়াইডি ও এসএআইসি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। গিলিও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।’










