উড়োজাহাজ (হেলিকপ্টারসহ), উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিন ও ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত আমদানি কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক), আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে দেশের বেসরকারি আকাশ পরিবহন সংস্থাগুলোর সংগঠন এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি।
আলোচনায় এওএবির নেতারা জানান, উড়োজাহাজ ও ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে এগুলো কিনতে হয়। ব্যয়বহুল যন্ত্রাংশের ওপর ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়করের সঙ্গে নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত আয়কর মিলিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সার্বিক করহার ১০০ শতাংশ অতিক্রম করে। প্রায় ভঙ্গুর বাংলাদেশী এভিয়েশন খাতের টিকে থাকার জন্য করহার সহনীয় নয়।
এওএবির নেতারা আরো জানান, উড়োজাহাজের সব ধরনের ইঞ্জিনের ওপর আরোপিত সিডি, ভ্যাট ও এআইটি ধার্য থাকায় এ খাতের পরিচালন ব্যয় অত্যধিক। ফলে এভিয়েশন খাত অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে এ খাতে সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার প্রয়োজন।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় এওএবির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনটির মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান। বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ার্স (বিএমএটিএস) সভাপতি প্রকৌশলী আলী আজম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প ২০৪১ অনুযায়ী ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণে প্রচুর ট্রান্সফরমার এবং বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক্যাল ইকুইপমেন্ট প্রয়োজন, যার আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার বিলিয়ন ডলার। এসব পণ্য দেশে উৎপাদিত হলে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। দেশে প্রায় ৬০টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও প্যানেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উৎপাদনকারীদের জন্য আমদানির সময়ে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের এইচএস কোড ক্লিয়ারলি ডিফাইন্ড না থাকায় কাস্টমস থেকে এইচএস কোড ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করে দেয়া হয়। এতে ডিউটি স্ট্রাকচার ও ভ্যাটে ব্যাপক পরিবর্তন হয়। কাঁচামাল আমদানির সময়ে এর মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আমরা সব সময়ই অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকি। আমাদের শুধু বাড়তি শুল্ক ও জরিমানা ছাড়াও অতিরিক্ত পোর্ট ও শিপিং ড্যামারেজও গুনতে হয়।’ বিএমএটিএসে নিবন্ধিত উৎপাদনকারীদের জন্য এইচএস কোড ডিফাইন করে কাঁচামালের ওপর ন্যূনতম কাস্টমস ডিউটি ৫ শতাংশ নির্ধারিত করে দেয়া অথবা আলাদা এসআরও জারির প্রস্তাব করেন তিনি।
এতে আরো অংশ নেয় বাংলাদেশ অটোমোবাইলস অ্যাসেম্বলারিস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা), বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিকড), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসসহ (বেসিস) বিভিন্ন সংগঠন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। এ সময় তিনি বলেন, ‘এনবিআর দেশের আয়বর্ধক ও ডেভেলপমেন্ট ওরিয়েন্টেড যেকোনো খাতকে সাপোর্ট করতে চায়। সবসময় আমাদের মাথায় থাকে, কোথায় কোন সাপোর্ট দিলে দেশের ইন্ডাস্ট্রির, দেশের মেধার, দেশের সব পণ্য ও সেবার সাপোর্ট হবে।’










