আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিঝুঁকি বর্তমানে দেশের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। অগ্নিনিরাপত্তায় পুরোপুরি সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
গতকাল রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন হলে ইলেকট্রনিকস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইসাব) আয়োজিত অগ্নিঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিঝুঁকি দেশের জন্য অন্যতম মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতের কোনো বিকল্প নেই।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ফায়ার সেফটি নিশ্চিতে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ভবন নির্মাণের সময় অবশ্যই বিল্ডিং কোড মানতে হবে। সরকারের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।’ শিগগিরই দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনায় বসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়েছে। বর্তমানে আমরা ৪৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছি। এখন সময় এসেছে ফায়ার সেফটি খাতে আমাদের সক্ষমতা অর্জন করার। আমাদের এখন নিয়মের মধ্যে আসতে হবে। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অতি প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফায়ার সার্ভিসের অপারেশনস ও মেইনটেইন্যান্স বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘উন্নত দেশে পরিণত হতে গেলে সব নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্মাণ ব্যয়ের ২ শতাংশ এ খাতে খরচ করতেও অনেকে কার্পণ্য করেন। এ অবস্থা থেকে আমাদের বের হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসাবের সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মো. নিয়াজ আলী চিশতি। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোয় অত্যাধুনিক অগ্নি সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কোনো বিকল্প নেই। ৯৫ শতাংশ অগ্নিকাণ্ডের জন্য মানুষ দায়ী। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় এলপি গ্যাসের দায় ৮০ শতাংশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।’ এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে ব্যানার-পোস্টার টানানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানান এ ব্যবসায়ী নেতা।
ইসাবের মহাসচিব জাকির উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ফায়ার সার্ভিসের সাবেক ডিজি আলী আহমেদ কায়সার, এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি রাশেদুল হোসেন চৌধুরী (রনি), বুয়েটের অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম শাহজাহান সাজু, সহসভাপতি মো. মতিন খান, মোহাম্মদ ফয়সাল মাহমুদ, ইঞ্জিনিয়ার মো. মনজুর আলম, এম মাহমুদুর রশিদ, যুগ্ম মহাসচিব মো. মাহমুদ-ই-খোদা, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহাবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মো. নূর-নবী, প্রচার সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, ইসাবের পরিচালক মো. ওয়াহিদ উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার মো. আল-ইমরান হোসেন, মেজর মোহাম্মদ আশিক কামাল, মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।










