বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির বাজারে শীর্ষস্থান
ধরে রাখতে সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ি
বাজারজাতের কথা ভাবছিল টেসলা। তবে সম্প্রতি এ প্রকল্প থেকে সরে আসার কথা জানিয়েছে ইলোন
মাস্ক মালিকানাধীন কোম্পানিটি। তিনটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর রয়টার্স।
বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির পরিবর্তে কোম্পানিটি
বর্তমানে চালকবিহীন চালিত রোবোট্যাক্সির
উন্নয়নে কাজ করবে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন থেকে সবার জন্য সাশ্রয়ী বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি
সরবরাহকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে জানিয়ে আসছেন টেসলা প্রধান ইলোন মাস্ক।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০০৬ সালে তার
কোম্পানিকে বিলাসবহুল গাড়ি তৈরির নির্দেশনা দেন। সেখান থেকে যে মুনাফা হবে তা কম খরচের
গাড়ি তৈরিতে ব্যয় করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। সে সময়ের পর থেকে বিনিয়োগকারী থেকে
শুরু করে গ্রাহকদের কাছে অনুরূপ গাড়ি বাজারজাতের
বিষয়ে অঙ্গীকার করে আসছিলেন মাস্ক।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিনিয়োগকারীদের
সঙ্গে আলোচনার সময় ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে টেক্সাসের কারখানায় সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ি তৈরির কথা জানিয়েছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে
টেসলার সবচেয়ে কম দামি গাড়ি
হচ্ছে মডেল থ্রি সেডান। এর মূল্য ৩৯ হাজার ডলার। সংশ্লিষ্টদের ধারণা ২৫ হাজার ডলারে
মডেল টু হয়তো আসতে পারে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও টেসলা কোনো মন্তব্য করেনি।
চীনের বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি উৎপাদনকারীদের
সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে এ পরিকল্পনা থেকে টেসলা সরে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসব কোম্পানি ১০ হাজার ডলার মূল্যের গাড়ি বাজারজাতের মাধ্যমে তুমুল প্রতিযোগিতা করছে।
অন্যদিকে ড্রাইভারবিহীন রোবোট্যাক্সি বাজারজাতেও সময় লাগবে। এছাড়া এর ইঞ্জিনিয়ারিং
ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে।
দুটি সূত্র জানায়, কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায়
কোম্পানিটি মডেল টু গাড়ি বাজারে না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে কোম্পানি রোবোট্যাক্সিতেই
বেশি মনোযোগী। এ বিষয়ে অবগত আরেকটি সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে টেসলার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ি বাজারজাতের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন যেকোনো
কোম্পানির জন্য চ্যালেঞ্জিং। চীনা কোম্পানির কারণে এ ক্যাটাগরিতে টেসলা কঠিন প্রতিযোগিতার
মধ্যে রয়েছে।
উচ্চ সক্ষমতার সাইবারট্রাক তৈরিতে দীর্ঘ
সময় ব্যয় করেছে টেসলা। যেখানে চীনের গাড়ি
নির্মাতারা সাশ্রয়ী মূল্যের বিদ্যুচ্চালিত
গাড়ি তৈরিতে কাজ করেছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর বাজার হিস্যার পাশাপাশি গ্রাহকও বেড়েছে।
চীনা কোম্পানিগুলোর প্রভাবে টেসলা কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকায় ইলোন মাস্ক স্পেসএক্স
থেকে শুরু করে নিউরালিংক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের ব্যবসা বিস্তারে বেশি মনোযোগ
দিয়েছেন।
সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ি বাজারজাতের মাধ্যমে ইভির বাজারে বিক্রি
বাড়ানো ইলোন মাস্কের অন্যতম লক্ষ্য ছিল। আগে ২০২০ সালে দেয়া এক বিবৃতিতে মাস্ক জানিয়েছিলেন,
২০৩০ সাল নাগাদ তার কোম্পানি দুই কোটির বেশি
গাড়ি বিক্রি করবে। তবে মডেল টু বাজারজাতের সম্ভাবনা না থাকায় এ লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয়
প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।










