চলন্ত অবস্থায় ৭৩৭ ম্যাক্স নাইন উড়োজাহাজের জানালায় ফাটল ও অন্য একটির ইঞ্জিনে আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বোয়িং উড়োজাহাজের অর্ডার ও ডেলিভারি কমেছে। এ অবস্থায় বোয়িংয়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাস চলতি বছর এয়ারলাইনস গ্রাহকের জন্য ৮০০ বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ডেলিভারির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা গত বছরের ৭৩৫টির তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। সম্প্রতি কোম্পানিটির চতুর্থ প্রান্তিক ও পুরো বছরের আর্থিক আয়ের প্রতিবেদনের এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
বিশ্বের বৃহত্তম উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি তাদের জনপ্রিয় এ৩২০ নিও মডেলের তৈরি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এয়ারবাস চলতি বছরে বৈশ্বিক অর্থনীতি, উড়োজাহাজ চলাচল, সরবরাহ চেইন, কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম ও পণ্য সরবরাহের সক্ষমতায় আর কোনো বিঘ্ন আসবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এয়ারবাসের সিইও গিলিয়াম ফাউরি এয়ারবাসের সব প্রোগ্রামে উড়োজাহাজের তৈরি সম্প্রসারণ করার সঙ্গে সঙ্গে সুরক্ষা ও মান ধরে রাখার প্রতি এয়ারবাসের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
সিইও গিলিয়াম ফাউরি আরো জানান, এয়ারবাস ২০২৬ সাল নাগাদ প্রতি মাসে ৭৫টি করে এ৩২০ নিও মডেল তৈরি করার পরিকল্পনা এখনো অপরিবর্তিত রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাটি এয়ারবাসকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বোয়িং থেকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বোয়িংকে আরো ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ তৈরিতে নিষেধ করেছে। গত মাসে আলাস্কা এয়ারলাইনসের একটি ৭৩৭ ম্যাক্স নাইন উড়োজাহাজের একটি ডোর প্যানেল উড়ে যাওয়ার পর এ নির্দেশ আসে। বোয়িং তার উড়োজাহাজের মান উন্নত না করা পর্যন্ত ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ নির্মাণ পরিমাণ বাড়াতে পারবে না।
এয়ারবাসের সিইও গিলিয়াম ফাউরি চলতি সপ্তাহে জানান, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচলে কম দুর্ঘটনা হওয়া সত্ত্বেও সুরক্ষার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে বোয়িংয়ের ঘটনাটি আমাদের বড় শিক্ষণীয় ছিল।
এদিকে সরবরাহ চেইনের বাধা থেকে শুরু করে প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির নির্মিত ইঞ্জিনগুলোয় সমস্যার কারণে এয়ারবাস নিজেও বেশকিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। যার কারণে শতাধিক এ৩২০ নিও উড়োজাহাজ পরিদর্শনের জন্য গ্রাউন্ডেড করতে হয়েছিল।
উড়োজাহাজের সুরক্ষার সংস্কৃতি বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিতে গিয়ে সিইও গিলিয়াম ফাউরি বলেন, ‘এয়ারবাস কখনো তাদের উড়োজাহাজের মানের সঙ্গে আপস করবে না।’
সামগ্রিকভাবে এভিয়েশন শিল্প কভিড-১৯ মহামারীতে তৈরি হওয়া সরবরাহ চেইন বিঘ্নের সঙ্গে এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এয়ারবাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতা ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রেখে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে। কোম্পানিটি উড়োজাহাজ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চলতি বছর আরো নতুন কর্মচারী নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।










