রাশিয়ায় চালু হওয়া ই-ভিসার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশটির পর্যটন খাতে। চলতি বছরে পর্যটক বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। দেশটির পর্যটন খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ইনট্যুরিস্টের মুখপাত্র আলেকজান্ডার মুসিখিন ও অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অপারেটরস অব রাশিয়ার (এটিওআর) দেয়া তথ্য এমনটা বলছে। খবর আরটি।
ইনট্যুরিস্টের দেয়া তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাশিয়া সফর করে ৪ লাখ ৩০ হাজার বিদেশী পর্যটক। দলগতভাবে আসা বেশির ভাগই চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক। তবে এককভাবে ঘুরতে আসা বেশির ভাগ পর্যটক ছিল লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের।
পর্যটন খাতে গত বছরের এ ঊর্ধ্বগতি চলতি বছরেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। রাশিয়ার স্থানীয় মুদ্রার বিনিময়ের হার এবং গত বছর চালু হওয়া ই-ভিসার ফলে পর্যটন খাতে এমন উল্লম্ফন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইনট্যুরিস্টের মুখপাত্র মুসিখিন। তিনি বলেছেন, স্থানীয় হোটেল পরিষেবায় কম মূল্য নির্ধারিত হওয়ায় বিদেশী পর্যটকের ভিড় বেড়েছে দেশে।
২০২৩ সালের আগস্টে ৫৫টি দেশের নাগরিকের জন্য ই-ভিসা চালু করে রাশিয়া। একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে চারদিনের মধ্যে এ ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
অনুমতিপ্রাপ্ত দেশগুলোর নাগরিকরা রাশিয়ায় একবার প্রবেশের অনুমতি পেয়ে থাকেন এবং দুই সপ্তাহ পর্যন্ত দেশটিতে থাকার সুযোগ পান।
মূলত পর্যটকদের সুবিধার্থেই ই-ভিসা চালু করেছে মস্কো। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এরই মধ্যে ই-ভিসা নীতি বিদেশী পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তুরস্ক, চীন, ইরানসহ বেশ কয়েকটি দেশের পর্যটকদের জন্য ভিসা ফ্রি নীতি চালু করেছে রাশিয়ার সরকার। সম্প্রতি ভারতকেও এ নীতি গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণ করে রাশিয়া। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও তাদের মিত্রদের প্রধান প্রতিপক্ষে পরিণত হয়েছে দেশটি। বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রভাবিত হয় রাশিয়ার অর্থনীতি। একই সময়ে অনেক দেশ থেকে পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর এ খাতে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় রাশিয়া।










