রেস্তোরাঁ পরিচালনা করা কখনই সহজ ছিল না। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় খাতটি আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। ২০২০ সালে কভিডের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রেস্তোরাঁ ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য বর্তমানে খাতটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। রেস্তোরাঁগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। ক্রেতারা ক্যাফে, ফাইন ডাইনিং ও ফাস্ট ফুড স্টোরগুলোয় ফিরছেন। কিন্তু ২০১৯ সালের তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রেস্তোরাঁর সংখ্যা অনেকাংশে কমে গেছে। এসব রেস্তোরাঁ আর কখনো চালু হবে কিনা সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। খবর সিএনএন বিজনেস।

মার্কিন রেস্তোরাঁ গবেষণা সংস্থা টেকনোমিকের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রেস্তোরাঁ ছিল প্রায় ৬ লাখ ৩১ হাজার। ২০১৯ সালের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৭২ হাজার কম। তথ্য বলছে, ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৭ লাখ ৩ হাজার রেস্তোরাঁ ছিল। টেকনোমিক বলছে, দেশটিতে রেস্তোরাঁর সংখ্যা চলতি বছর আরো কমে ৬ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছতে পারে। তাছাড়া ২০২৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রেস্তোরাঁর সংখ্যা কভিডের আগের স্তরে ফিরে আসার তেমন সম্ভাবনা নেই। বিশেষ করে বসে খাওয়া যায় এমন রেস্তোরাঁগুলো অধিক ঝুঁকিতে পড়েছে। কেননা দেশটিতে ডেলিভারি ও টেকআউটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। পাশাপাশি উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে কিছু সম্ভাব্য ক্রেতা অর্থ সঞ্চয় করতে রেস্তোরাঁগুলো এড়িয়ে চলছেন।

 এদিকে রেস্তোরাঁর ভাড়া ও উপাদান খরচের মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে পড়েছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা। ফলে কর্মী নিয়োগ দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রেস্তোরাঁর মালিকরা নতুন উদ্যোক্তাদের খাতটি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। সান ফ্রান্সিসকো রেস্তোরাঁর শেফ এবং যৌথ-মালিক ডেভিড নাইফেল্ড বলেন, ‘আমি বলব, আপনি যদি অভিজ্ঞ ও অবিশ্বাস্যভাবে টেকসই স্তরের পরিচালক না হন, তবে রেস্তোরাঁ খোলার জন্য এটি ভালো সময় বাছাই করুন। বর্তমানে রেস্তোরাঁ ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য অভিজ্ঞতা এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।’

নাইফেল্ড নিজেও রেস্তোরাঁ ব্যবসা খাতের একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি। এর আগে তিনি বিখ্যাত ইলেভেন ম্যাডিসন পার্কে কাজ করেছেন। তিনি নিজেও ব্যবসা পরিচালনা করতে লড়াই করছেন। তিনি বলেন, ‘কভিড-১৯ মহামারীর ফলে কয়েক বছর ধরে আমরা সত্যিই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি।’

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরে আবাসন ও খাদ্য পরিষেবা খাতে ৪ লাখ ৯ হাজার কর্মসংস্থান বেড়েছে। এ সময়ে খাতটিতে কর্মী চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মহামারী শুরুর দিকে রেস্তোরাঁগুলো গণহারে লাখ লাখ কর্মী ছাঁটাই করে। মহামারী চলাকালীন অধিকাংশ কর্মচারী স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন। কভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার ভয়েও অনেকে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। যাদের অনেকেই এখনো ফিরে আসেননি। রোস্তোরাঁ পরিচালকরা পুনরায় কর্মী নিয়োগ দেয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

টেকনোমিকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ডেভিড হেনকেস বলেন, ‘কর্মী সংকট রেস্তোরাঁ ব্যবসা খাতের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। পর্যাপ্ত যোগ্য কর্মী সরবরাহ নেই। এছাড়া রেস্তোরাঁগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা এটা কখনই অসংখ্য মানুষের পছন্দের খাত ছিল না।’ হেনকেস বলেন, ‘রেস্তোরাঁগুলোকে কর্মীদের কাজের অভিজ্ঞতা বিবেচনা এবং কী ধরনের প্রস্তাব দিচ্ছে সেটি বিবেচনা করা প্রয়োজন।’

এছাড়া বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কর্তারা কর্মীদের উচ্চতর মজুরি দিতে আগ্রহী নন। রেস্তোরাঁ ব্যবসার সংকট নিরসনের চেষ্টা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর। চিপটল, স্টারবাকস, চিক-ফিল-এ, ম্যাকডোনাল্ডস ও কেএফসি রেস্তোরাঁর মালিক ইয়াম ব্র্যান্ডস প্রত্যেকেই স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোকে ১০ লাখ ডলার করে অর্থ সহযোগিতা করেছে।