উচ্চশুল্ক আরোপ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে সুইস বিলাসবহুল ঘড়ির বিক্রি এখনো শক্তিশালী। খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ওয়াচেস অব সুইজারল্যান্ড গ্রুপের ষান্মাসিক প্রতিবেদন এ প্রবণতার উল্লেখ করেছে। এতে বলা হয়েছে, সুইস ঘড়ির স্থিতিশীল বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রে হাই-এন্ড পণ্যের দৃঢ় চাহিদার ইঙ্গিত দেয়। খবর ইউরো নিউজ।
ওয়াচেস অব সুইজারল্যান্ড যুক্তরাজ্যে তালিকাভুক্ত খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। দেশটিতে রোলেক্স, ওমেগা ও কার্টিয়ের বিক্রিতেও শীর্ষ হিস্যাধারী। কোম্পানিটির বাজারের আওতায় আরো রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর শেষ হওয়া ছয় মাসে ওয়াচেস অব সুইজারল্যান্ডের আয় ১০ শতাংশ বেড়ে ৮৪ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ১১৩ কোটি ডলার হয়েছে। এ সময় সুদ ও কর-পূর্ব সমন্বিত আয় (অ্যাডজাস্টেড ইবিআইটি) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড, যা আগের ছয় মাসের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। এছাড়া কর-পূর্ব ঘোষিত মুনাফা ৫০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড।
চলতি বছরের শুরুতে সুইস আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৩৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যা দেশটিতে সুইস নির্মিত ঘড়ির দাম বাড়িয়ে দেয়। ৭ আগস্ট থেকে এ বাড়তি শুল্ক কার্যকর হয়। গত মাসে ওয়াশিংটন ও বার্ন সমঝোতায় এসে শুল্কহার কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে, যদিও নতুন শুল্কহার আগের যেকোনো সময় তুলনায় বেশি। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে দামি সুইস ঘড়ির চাহিদা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে।
ওয়াচেস অব সুইজারল্যান্ড গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান ডাফি বলেন, ‘কোম্পানি খুব শক্তিশালী প্রথমার্ধ পার করেছে। স্থির মুদ্রায় আমাদের আয় বেড়েছে ১০ শতাংশ। ভালো মুনাফা হয়েছে।’
সুইস ঘড়ির জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রধান একটি বাজার। সেখানে ছয় মাসে সুইস ঘড়ি বিক্রি বাবদ আয় ২০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড, যা গ্রুপের মোট আয়ের ৪৮ শতাংশ এবং সমন্বিত ইবিআইটির নিরিখে ৫৯ শতাংশ।
ব্রায়ান ডাফি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রই ছিল আমাদের পারফরম্যান্সের মূল চালিকাশক্তি। দেশটিতে ব্র্যান্ড ও ঘড়ির বিভিন্ন বিভাগে শক্তিশালী চাহিদা রয়েছে। এ অঞ্চল এখন আমাদের মোট মুনাফার প্রায় ৬০ শতাংশের উৎস।’
ওয়াচেস অব সুইজারল্যান্ড জানায়, সুইস ঘড়ির ওপর বাড়তি শুল্ক, স্বর্ণের উচ্চ দাম ও মুদ্রার বিনিময় হার বিবেচনায় ব্র্যান্ডগুলো যুক্তরাষ্ট্রে দাম বাড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রধান সুইস ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী।
কোম্পানিটি জানায়, এখনো তাদের ব্যবসার মূল ভিত্তি বিলাসবহুল ঘড়ি। এ বিভাগ থেকে এসেছে গ্রুপের মোট আয়ের ৮৪ শতাংশ। এমনকি প্রধান সুইস ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা প্রতিনিয়তই সরবরাহকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদন আরো বলছে, সুইস ঘড়ি নির্মাতা ও তাদের খুচরা বিক্রেতা অংশীদাররা যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। সর্বশেষ ষান্মাসিকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে গ্রুপের আয় মাত্র ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪৩ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে ব্র্যান্ড ও বিভিন্ন দামের পণ্যজুড়ে চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে।
ব্রায়ান ডাফি জানান, গ্রুপের চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধও ভালোভাবে শুরু হয়েছে। বড়দিন ও ছুটির মৌসুমের কারণে কোম্পানি ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং ব্যবসার প্রবৃদ্ধি নিয়ে তারা আশাবাদী। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন রয়েছেন নির্বাহীরা।










